মালদা : মালদার মোথাবাড়িতে তাণ্ডব, কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের। মুখ্যসচিব, DGP, DM, SP-কে শোকজ নোটিস। ৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল শুনানিতে সবাইকে হাজির থাকতে নির্দেশ। CBI বা NIA-কে দিয়ে গোটা বিষয়টি তদন্ত করানো হবে। তদন্তের রিপোর্ট সরাসরি জমা দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টে। এবার মোথাবাড়ি তাণ্ডবের তদন্ত হবে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে। 

Continues below advertisement

বুধবার মালদায় যা ঘটেছে সেই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, 'এটি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি নির্লজ্জ অপচেষ্টাই শুধু নয়। বরং এটি আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোরই সামিল। এটি নিষ্পত্তি না হওয়া মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা।' এর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা কমিশনের দায়িত্ব। তার জন্য যা করার দরকার সেটা কমিশনকে করতে হবে।' দেশের শীর্ষ আদালতের তরফে এও বলা হয়েছে যে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, করতে হবে। এছাড়াও SIR-এর কাজ যেখানে হচ্ছে, সেখানে ৫ জনের বেশি হাজির থাকতে পারবে না, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। 

মালদার মোথাবাড়িতে জুডিশিয়াল অফিসারদের সঙ্গে যে ভয়ঙ্কর আচরণ করা হয়েছে সেই ব্যাপারে মারাত্মক ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেছেন, 'গতকাল বিকাল ৫টা থেকে এই অফিসারদের আটকে রাখা হল। মহিলা অফিসারদের আটকে রাখা হল। তাঁদের জল-খাবার পর্যন্ত দেওয়া হল না। তাঁদের ৫ বছরের সন্তান কাঁদছে। দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক নেতাদের এর নিন্দা করা উচিত।' এর পাশাপাশি বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, 'হাইকোর্টের তরফ থেকে DG এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। রাত ১২ টায় DG ও স্বরাষ্ট্রসচিব প্রধান বিচারপতির বাড়ি যান। রাত ১২টায় জুডিশিয়াল অফিসারদের মুক্তি দেওয়া হয়।' এছাড়াও প্রধান বিচারপতি বলেন, 'রাজ্যের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। আমরা এখান থেকে প্রশাসনকে বলার পরে কাজ হল। রাজনৈতিক নেতারা কী করছিলেন?' 

Continues below advertisement

অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে উদ্দেশ্য করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এও বলেছেন, 'সব থেকে দুর্ভাগ্যজনক হল আপনার রাজ্যে সব কিছু নিয়ে রাজনীতি হয়। আদালতের নির্দেশ মানার ক্ষেত্রেও রাজনীতি হয়। আপনি কী ভাবেন যে আমরা জানি না যে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে? এই ঘটনার ফলে জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর খারাপ প্রভাব পড়বে।'