সোমক লাহিড়ি, মালদা : মালদার সুজাপুরে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে ৪২৭ জনের নাম বাদ ! সুজাপুরের ১টি বুথে বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৫২২ জনের নাম। শুনানিতে ডাকা হলে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেন ভোটাররা। সুজাপুর কেন্দ্রের সিলামপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে নাম বাদের অভিযোগ। এই বুথে ৪২৭ নাম বাদ পড়ার অভিযোগ। সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বেরতেই ৪২৭ জনের নাম বাদ, দাবি স্থানীয়দের। স্বভাবতই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। উত্তেজনা রয়েছে সেখানে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা বলছেন, 'এখানকার নাগরিক আমরা। বাপ-দাদার জন্ম এখানে। আমরা এখানকার স্থানীয় লোক। ওরা বলছে আমরা নাগরিক নই।' আরেক যুবকের কথায়, 'একটা বুথে ৪২৭ জনের নাম বাদ যাওয়া মানে চাট্টিখানি কথা নয়। পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কিত। আমাদের একটাই আবেদন, আমাদের নাম যেন বাদ না যায়। ৫২২ জনের হিয়ারিং হয়েছিল। ৪২৭ জনের নামই ডিলিট হয়ে গিয়েছে, একদম বাতিল।'
সোমবার মাঝরাতে প্রকাশিত হয়েছে এসআইআর- এর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট। তারপর থেকে ধোঁয়াশা এবং বিভ্রান্তি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বসিরহাটেও ধরা পড়েছে একই ছবি। বিবেচনাধীন ছিলেন বসিরহাটে এক বুথের ৩৪০জন ভোটার। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ গেছে প্রত্য়েকের নাম। নাম ডিলিটেড হিসেবে দেখাচ্ছে BLO মহম্মদ শফিউল আলমের নামও। বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বড় গোবরা গ্রামের পাঁচ নম্বর বুথে ধরা পড়েছে এই ছবি। এই বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ৯৯২ জন। তাঁদের মধ্য়ে শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন ৩৫৮ জন। এই ৩৫৮ জনের মধ্য়ে মাত্র ১৮ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ওঠে। বাদবাকি নাম ছিল বিবেচনাধীন হিসেবে, রাতে বিক্ষোভ বাদ পড়া ভোটারদের।
হাওড়ায় আবার আইনজীবীর বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম
বারবার তথ্য ঠিক করার জন্য় জমা দিয়েছেন কাগজপত্র। হাওড়ার আইনজীবীর দাবি, তারপরও রয়ে গেছে বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম। এরপর সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গেল তাঁর নাম ডিলিটেড। আইনজীবী নাজনিন খাতুনের দাবি, খসড়া তালিকায় বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম থাকায় শুনানিতে ডাকা হয়। তখন সমস্ত কাগজপত্র জমাও দেন তিনি। তারপরও চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন হিসেবে নাম আসে তাঁর। ফের এক প্রস্ত কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু তারপরও প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম ডিলিটেড। এই আবহে এবারের বিধানসভা ভোটে, তিনি ভোট দিতে পারবেন কিনা তাই নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
মেদিনীপুরে আবার ঘটেছে আরেক কাণ্ড। খসড়া তালিকায় নাম না থাকায় করেছিলেন ফর্ম ৬ পূরণ, তারপরও ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য ও পেশায় শিক্ষক প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর। এবার তাঁকেই পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য় চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। মেদিনীপুর শহরের এই ঘটনা ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য়। প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর প্রশ্ন, ভোটাধিকারই যদি না থাকে, তাহলে ভোটের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন তিনি?
