অতনু হালদার, কলকাতা: ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে গিয়েছে। ফলাফল ঘোষণা বাকি এখনও পর্যন্ত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে হিরে হিসেব-নিকেশ মেলাতে পারছেন না অনেকেই। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ SIR-এর পর এই প্রথম রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হল। দলে দলে মানুষজন ভোট দিতেও গিয়েছেন। ভোটদানের হারে রেকর্ড তৈরি হয়েছে। আর তাই প্রশ্ন উঠছে, এই ভোট SIR-এর পক্ষে, নাকি প্রতিবাদে? বিপুল ভোটদানে লাভবান হবে কোন দল, ক্ষতিগ্রস্তই বা হবে কোন দল? (SIR Effects on West Bengal Election 2026)

Continues below advertisement

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ভোট পড়েছে, প্রায় ৯৩ শতাংশ। ২০২১ সালের সঙ্গে তুলনা করলে ১১ শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে এবার। SIR-এর জেরে ২০২১ সালের তুলনায় এবার ভোটারের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫১ লক্ষ। কিন্তু ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে ৩১ লক্ষ। এত ব্যাপক ভোটদান আগে কখনও দেখা যায়নি। ২০২৬ সালে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৮৩ লক্ষ। ২০২১ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ।  ২০২৬ সালে ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ২০২১ সালে ভোট দিয়েছিলেন ৬ কোটি ৩ লক্ষ। (West Bengal Election 2026)

আরও পড়ুন: ধর্নায় তৃণমূল, রাস্তায় বসলেন কুণাল ঘোষ-শশী পাঁজা, কলকাতার এই স্ট্রং রুমের সামনে বেনজির দৃশ্য

Continues below advertisement

মোট ভোটারের সংখ্যা কমলেও, ২০২১-এর তুলনায় এবারে ৩১ লক্ষ বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। বেশি সংখ্যক মানুষ ভোট দেওয়ায় তৃণমূলের বিদায় দেখছেন অনেকে। যদিও তৃণমূলের দাবি, SIR-এর জেরেই মানুষ দলে দলে ভোট দিতে গিয়েছেন। নাম বাদ না যায় যাতে, তাই দলে দলে লাইন দিয়েছেন বুথের বাইরে। মমতার দাবি, তাঁরা ২২৬-এর বেশি আসন পেতে পারেন। ৩০০-র কাছাকাছিও পৌঁছে যেতে পারে তৃণমূল। পাল্টা কটাক্ষ করে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "৩২১-এও পৌঁছে যেতে পারেন।"

SIR-এর জেরে ভোটদান বেড়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। কিন্তু এতে কার লাভ, কার ক্ষতি? ভোটের ফলে এর কী প্রভাব পড়বে? অবশ্যই ভোটের ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত ৮০/৮২/৮৩ শতাংশ ভোট পড়ে। এবারে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১১-১২ শতাংশ বেশি। ফলে ভোটবাক্সে প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক। 

আরও পড়ুন: স্ট্রংরুমে ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা, ভিতরে ঢুকতে গেলে চাই কমিশনের QR কোড দেওয়া পরিচয় পত্র!

যাঁরা কখনও ভোট দেননি, যাঁরা বহুদিন ভোট দেননি, তাঁরাও এবার ভোট দিয়েছেন। সংখ্যা এবং শতাংশের নিরিখে এতটাই বেড়েছে ভোটদান, তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত, তাও নির্ধারণ করতে পারে এই বিপুল ভোটদান। কোথাও ২/৩ শতাংশ বেশি বা কম ভোট পড়েছে। তবে ২৯৪টি কেন্দ্রেই আগের তুলনায় বেশি ভোট পড়েছে। কার্যত ভোটের ঝড় বয়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। তবে এতে কে লাভবান হবেন, কার ক্ষতি হবে, তা ফল বেরনো না পর্যন্ত বোঝা মুশকিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই বিপুল ভোটদানের নেপথ্যে দু'টি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা, ১) SIR-এর পর মানুষের মধ্যে ভোটদানে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। কষ্ট করে নাম তোলা হয়েছে যখন, ভোট দিয়ে আসার কথা মনে হয়। ২) উদ্বেগও কাজ করেছে মানুষের মধ্যে যে। SIR-এর পর ভোট দিতে তাই দলে দলে ছুটে গিয়েছেন সকলে। ভিন্ রাজ্য থেকেও মানুষজন ছুটে এসেছেন ভোট দিতে।