কলকাতা: প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্য়োপাধ্যায়। শ্যুটিংয়ে দিয়েছিলেন দিঘায়। সেখানেই দিঘা সংলগ্ন তালসারির সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় এই অভিনেতা ও লেখককে। শ্যুটিংয়ে শেষে সমুদ্রে নেমে ডুবে যান রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর মৃত্যুর খবর শুনেই ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা বাদশা মৈত্র। ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। একসঙ্গে অভিনয়, থিয়েটার থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য মিছিলে হাঁটা সব স্মৃতিই উঠে এল বাদশা মৈত্রর গলায়। তিনি বলছেন, ''কিছু বলার নেই আমার, জানি না কী বলব। এটা কোনও খবর হল? এত ছোট থেকে চিনি ওঁকে। রবি ওঝার প্রোডাকশনের সময় থেকে। তখন অনেক ছোট। আমি ওকে বাচ্চা বাচ্চা দেখতে দেখে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তুই কোন ক্লাসে পড়িস, আমাকে বলেছিল কলেজে পড়ি। আমার কথা বলার কোনও ভাষা নেই।''

Continues below advertisement

শ্যুটিংয়ে গিয়ে এভাবে  প্রাণ হারানোটা কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করতেই বাদশা বললেন, ''শ্যুটিংয়ের বিষয়টা জানার জন্য আমি ফোন করছি। আমি আসলে কিছুই জানি না। এখন তো জেনেও কিছু করতে পারব না। তবে ওঁর সঙ্গে কে বা কারা রয়েছেন, তা জানলে একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারি। তবে এটাও ঠিক যে আমাদের বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে সেভাবে কোনও নিরাপত্তা থাকে না। সুপারস্টারদের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা হয়। কিন্তু তাছাড়া সেভাবে কোনও নিরাপত্তা আলাদা করে কিছু থাকে না। তবে প্রত্যেককেই একটু সজাগ থাকা প্রয়োজন এটাও ঠিক। কিন্তু আদৌ কি হয়েছিল তা তো জানি না। এখন মনটা আর ভালো লাগছে না।''

রাহুলের সঙ্গে আমার অভিনয় ও অভিনয়ের বাইরে দীর্ঘদিন অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বহু মিছিলে হেঁটেছি, বহু সভায়, বহু মঞ্চে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। আমার যখন কোনও বিষয়ে মত পার্থক্য হয়েছে, ওকে ফোন করে বুঝিয়েছি। সবসময় দাদার মত ভালোবেসেছে আমাকে। আমার এখন কিছু বলতে আর ভাল লাগছে না। আশা করি পরে বিস্তারিত আরও কিছু বলতে পারব।''

Continues below advertisement

সম্প্রতি একটি সিরিয়ালের শ্যুটিং চলছিল। সেই সিরিয়ালে শ্যুটিংয়ের জন্য়ই তালসারিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই প্রাণ হারাতে হল শেষ পর্যন্ত। ২০০০ সালে 'চাকা' ছবিতে অভিনয় দিয়ে কেরিয়ার শুরু। রাহুলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত বাংলা ছবি 'চির দিনই তুমি যে আমার'।