নয়াদিল্লি: সোশ্য়াল মিডিয়ায় মহাত্মা গাঁধীকে গালিগালাজ। ঢালাও প্রশংসা মহাত্মাকে হত্যাকারী নাথুরাম গডসের। বিতর্কে দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেতা তথা পরিচালক শ্রীকান্ত আয়েঙ্গার। অকথ্য় ভাষায় মহাত্মাকে গালি-গালাজ করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। ইতিমধ্যে অভিযোগও দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। (Srikanth Iyengar Abuses Mahatma Gandhi)

সম্প্রতি একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন তেলুগু ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা শ্রীকান্ত। একহাতে সিগারেটে সুখ টান দিতে দিতে, ওই ভিডিও-য় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “মহাত্মা গাঁধী যদি জাতির জনক হন, তাহলে আয়্যাম দ্য বা*স্টা*র্ড সিটিজেন।” মহাত্মা নন, ভারতমাতাকে পুজো করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি। (Mahatma Gandhi)

মহাত্মাকে শ্রীকান্ত আরও অকথ্য় ভাষায় গালিগালাজ করেন। বরং মহাত্মাকে হত্যাকারী, গডসের ভূয়সী প্রশংসা করা যায়। তাঁর মতে, গডসে আসলে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করেছেন। ‘প্যারাসাইট’কে খতম করে দিয়েছেন। শ্রীকান্তের এহেন মন্তব্যে বিতর্ক শুরু হতে সময় লাগেনি। তাঁর মন্তব্য শুধু আপত্তিকরই নয়, উস্কানিমূলক বলেও মনে করছেন নেটিজেনদের একাংশ।

রাজনীতিক তথা সমাজকর্মীরা শ্রীকান্তের বিরুদ্ধে একযোগে সরব হয়েছেন। তেলঙ্গানা প্রশাসনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। কংগ্রেসের বিধান পরিষদীয় সদস্য বি বেঙ্কট হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম ইউনিটে শ্রীকান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর মতে, অত্যন্ত আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন শ্রীকান্ত। অপরাধ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত। বিনোদন জগতে শ্রীকান্তের কলাকুশলীদেরও এ নিয়ে অবস্থান নিতে আর্জি জানিয়েছেন বেঙ্কট। শ্রীকান্তের আগামী ছবি, শ্রীকান্ত অবিলম্বে মন্তব্য প্রত্যাহার না করলে, ক্ষমা না চাইলে, তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সাসপেন্ড করার দাবি তুলেছেন তিনি।

বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি শ্রীকান্ত। তাঁর তরফে কোনও প্রতিনিধি বিবৃতি দিতে এগিয়ে আসেননি।  তবে চিকিৎসক থেকে অভিনেতা হয়ে ওঠা শ্রীকান্ত এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছেন। তেলুগু ফিল্ম ক্রিটিক্সের তরফে তাঁর আচরণ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। ডিজিটাল মিডিয়া আর্টিস্টস’ অ্যাসোসিয়েসন তাঁকে ব্ল্যাকলিস্ট করে। পরবর্তীতে ক্ষমা চাইতে হয় তাঁকে। 

এবার সরাসরি মহাত্মা সম্পর্কে আপত্তিজনক মন্তব্য করতে শোনা গেল শ্রীকান্তকে।  তাঁর অনুরাগীরাও নিন্দায় সরব হয়েছেন।