মুম্বই: সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি পোস্টই ঝড় তুলেছে। কেন আর ছবিতে গান গাইবেন না, অরিজিৎ সিংহ, মুখে মুখে ঘুরছে এই প্রশ্ন। সঙ্গীতের জগতে অরিজিতের কলা-কুশলীদের অনেকেও সেই নিয়ে মুখ খুলেছেন ইতিমধ্যেই। প্লেব্যাক থেকে অরিজিতের এই ‘সন্ন্যাস’ নিয়ে এবার মুখ খুললেন গায়িকা সোনা মহাপাত্র। (Arijit Singh)
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্লেব্য়াক থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন অরিজিৎ। সোশ্য়াল মিডিয়াতেই এ নিয়ে মুখ খুলেছেন সোনা। অরিজিৎকে তিনি ‘সাহসী’, ‘উদার’ বলে উল্লেখ করেন। সোনা লেখেন, ‘প্লেব্যাক থেকে সরে যাওয়ার অর্থ বিদায় নয়, বরং স্বাধীনতা, লেখালেখি এবং সম্ভাবনার জগতে প্রবেশ করা। কেন, কী কারণ তা নিয়ে জল্পনায় যেতে চাই না। আমি নিশ্চিত, কারণটা ব্যক্তিগত এবং সম্পূর্ণ ভাবে বৈধ। ইচ্ছেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ওঁর পূর্বসূরিরা এই রাস্তায় হাঁটার কথা ভাবতেও পারেননি: নিজে সরে গিয়ে অন্যকে জায়গা করে দেওয়া’। (Arijit Singh Retires from Playback)
সোনা আরও লেখেন, ‘সর্বপ্রথম নিজের জন্য, অন্বেষণের জন্য, সৃষ্টির জন্য, নিজের শর্তে নিজের গান গাওয়ার জন্য। এবং হ্যাঁ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক বা না হোক, এতে নতুন কণ্ঠস্বরগুলির জন্য জায়গা তৈরি হবে, যাঁরা আজ ‘স্ক্র্যাচ সিঙ্গার’ বা ডেমো হিসেবে রয়ে গিয়েছেন…এমন গানের জন্য, যা কোনও দিন গাওয়ার অনুমতিই পাবেন না তাঁরা’। (Sona Mohapatra)
নতুন করে ছবিতে আর গান গাইবেন না বলে জানালেও, স্বাধীন ভাবে নিজের মতো সঙ্গীত সাধনা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন অরিজিৎ। কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ ‘যুগের অবসান’ বলছেন, অনেকে আবার হা-হুতাশও করছেন। সেই নিয়েও শোকসংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে কেন’?
অরিজিতের পাশে দাঁড়িয়ে সোনা আরও লেখেন, ‘উনি সঙ্গীত সৃষ্টি করছেন, গায়েব হয়ে যাচ্ছেন না। আরও অন্য স্বাদ, অন্য কণ্ঠ, অন্য কল্পনার প্রতি এহেন আতঙ্ক কেন? সৃজনশীলতার এই দুর্ভিক্ষ কেন উপভোগ করি আমি। দোকানে হাজারো আইসক্রিম থাকা সত্ত্বেও, একটি স্বাদের আইসক্রিম বেছে নেওয়া কেন? ভয় নয়, স্বাধীনতা বেছে নেওয়ার জন্য শিল্পীদের অভিনন্দন। এভাবেই নতুন যুগের সূচনা হয়। অরিজিৎ যে ধরনের শিল্পী এবং আগামীতে উনি যা হয়ে উঠবেন, তার জন্য অভিনন্দন। অভিনন্দন আসল সঙ্গীতকে যা ছবির উপর নির্ভরশীল নয়, নিজগুণেই এগিয়ে যায়’।
কিছু মনোমালিন্য, কিছু অসন্তোষ থেকেই অরিজিৎ ছবিতে গান গাওয়া থেকে পিছু হটেছেন বলে জল্পনা শোনা যাচ্ছে। সোনার বক্তব্য, ‘সত্যি কথা বলতে, ইন্ডাস্ট্রি ঝুঁকি নেওয়ার দিকে যায় না। একই কণ্ঠকে অতিরিক্ত ব্যবহার করেন প্রযোজকরা। ডেমো সিঙ্গারদের কোনও টাকা দেন না। ভাল সুযোগের গাজর ঝুলিয়ে দু’দশক ধরে গান গেয়ে চলা প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদেরও টাকা দেওয়া এড়িয়ে যান। ১০টা কণ্ঠ পরখ করে দেখুন! সঙ্গীত পরিচালকে মেরে ফেলছেন একেবারে। গোটা প্রক্রিয়াটাই ক্লান্তিকর জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে এবং তার পর অরিজিৎকে দিয়ে গান রেকর্ড করিয়ে বাকিদের উপর শোষণের এই চক্রে ফাঁসিয়ে রাখা হচ্ছে। নিজেদের সুবিধার জন্য এটা করা হচ্ছে, যা মোটেই ঠিক নয়’।
অরিজিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সোনার সাফ বক্তব্য, ‘এই সিদ্ধান্ত? সাহসী, উদার, বিঘ্ন, ছক ভেঙে দেওয়ার সেরা উপায়। আপনাকে অভিনন্দন অরিজিৎ। নতুন পথ আনন্দ, সিদ্ধি, সৃজনশীলতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক’।
