মুম্বই : আশা ভোঁসলে - ভার্সেটাইল সিঙ্গার বলতে ঠিক যা বোঝায়, সকলের প্রিয় 'আশা তাই' একেবারে ছিলেন সেটাই। ক্লাসিকাল ঘরানার গান থেকে শুরু করে ডিস্কো, পপ, রিদমিক, ক্যাবারে - দীর্ঘ ৮ দশকের কেরিয়ারে সবই গেয়ে ফেলেছেন তিনি। 'দিল চিজ কেয়া হ্যায় আপ মেরি জান লি জিয়ে' থেকে 'জওয়ানি জানেমন হাসিন দিলরুবা', 'পিয়া তু অব তো আজা' কিংবা 'রঙ্গিলা রে'... আশা ভোঁসলে মানেই চমকের পর চমক। শুধু গায়িকা বা সঙ্গীশিল্পীই নন, আশাজি ছিলেন 'পারফেক্ট পারফর্মার'। তাঁর ভয়েস এক্সপ্রেশন মানুষকে চিনিয়ে দিত গানের ধরন। গানের লিরিক্সের সঙ্গে এক্সপ্রেশনের যে অসামান্য মেলবন্ধন প্রতিটি গানে আশাজি তৈরি করতেন, তা শুনে গানের সমঝদার নয় এমন মানুষও একবাক্যে বলবেন 'লা-জবাব'। স্লো রিদমের গান, ভীষণ অনুভূতিযুক্ত প্রেমের গান 'মেরা কুছ সামান' গেয়েছেন যিনি, সেই তিনিই আবার দর্শকদের মাতিয়েছেন 'রাত বাকি, বাত বাকি' গেয়ে। 

Continues below advertisement

মেলোডি কুইনের পাশাপাশি আশা ভোঁসলে 'পাওয়ার পারফর্মার', আশা তাইয়ের গান মানে আবেগ, অনুভূতি, রিদম, এনার্জিতে - সব পাবেন শ্রোতারা 

মাত্র ১০ বছর বয়স সিনেমায় প্রথমবার গান গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। ১৯৪৩ সালে রিলিজ হওয়া মারাঠি ছবি Majha Bal- এ Chala Chala Nav Bala গানের মাধ্যমেই সিনেমায় গান গাওয়ার দুনিয়ায় ডেবিউ হয়েছিল মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত 'মঙ্গেশকর' পরিবারের এই মেয়ের। এবছর ৮ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়স হত তাঁর। জন্মদিনের ৫ মাস আগেই চলে গেলেন আশাজি। 

Continues below advertisement

আশা ভোঁসলে কত গান গেয়েছেন, কী ধরনের গান গেয়েছেন, সেই হিসেব কষতে বসলে সমাধান মেলা দুষ্কর। ডান্স নাম্বার থেকে শুরু করে গজল, হিন্দি, বাংলা, মারাঠির পাশাপাশি সব মিলিয়ে প্রায় ২০টি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। গানের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। রেখা, আশা পারেখ, শর্মিলা ঠাকুর, উর্মিলা মাতণ্ডকর, করিশ্মা কাপুর, ঐশ্বর্য রাই, শমিতা শেট্টি, আমিশা পাটেল... আশা ভোঁসলের গলায় আরও কত কত নায়িকার ছবির যে হিট গান রয়েছে তাঁর ইয়ত্তা নেই। এ আর রহমানের সুরে 'রঙ্গিলা' ছবির গান হোক কিংবা শমিতা শেট্টির গান 'শরারা শরারা'... গুনে শেষ করা সত্যিই মুশকিল 

৯০তম জন্মদিনে ঘরোয়া সেলিব্রেশনের বদলে আশা তাই মেতেছিলেন দুবাইয়ের লাইভ কনসার্টে 

করণ আউজলার গান 'তউবা তউবা'- তে ভিকি কৌশলকে নাচতে দেখা গিয়েছে দুরন্ত হুক স্টেপে। ৯০তম জন্মদিনে দুবাইতে আশাজি নিজের লাইভ কনসার্টে নেচেছিলেন এই গানেই। এটাই প্রথমবার নয়। ২০০০ সালে 'কহো না পেয়ার হ্যায়' রিলিজের পর যখন সেই ছবির সব গান ব্যাপকভাবে 'হিট' হয়েছিল, সেই সময় বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড শো, কনসার্টে আশাজিকে কিন্তু সপ্রতিভ ভাবে নাচতে দেখা যেত ওই সিনেমার গানগুলিতে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়, সংগ্রহে একগুচ্ছ পদ্ম-পুরস্কার, লতা দিদির সঙ্গে কি সত্যিই 'রেষারেষি' ছিল আশাজির 

বলিউডে আশা-লতার 'রেষারেষি'- র গসিপ বেশ জনপ্রিয়। তবে দুই বোন না কোনওদিন এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন, না কোথাও দেখা গিয়েছে তাঁদের 'শত্রুতা'-র নজির। বরং সবক্ষেত্রে 'লতা দিদি'-কে পাশে নিয়েই নিজের আলদা পরিচয় তৈরির দিকে একধাপ করে এগিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। অনেক সাক্ষাৎকারে লতাজি এবং আশাজির কথাও এটাও বারংবার বোঝা গিয়েছে যে, মানুষের তৈরি করে দেওয়া এই 'সেলেব গসিপ' বেশ উপভোগ করেন তাঁরা, মজা পান, হাসি-ঠাট্টায় মেতেও থাকেন এইসব নিয়ে।