কলকাতা: ভোটের আগেই তৃণমূলের অন্দরেই সংঘাত! স্বরূপ বিশ্বাসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেবের (Dev)। স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগ। সেই নিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরূপ বিশ্বাসকে (Swarup Biswas) আক্রমণ শানালেন দেব। টেকনিশিয়ানদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ (Swasthya Sathi) প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা নিয়ে গিল্ড-র সদস্যদের ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস মুখ খোলেন। তাঁর জবাব দেন দেবও। ঠিক কী বলেছিলেন স্বরূপ? এর সূত্রপাতই বা কী থেকে?

Continues below advertisement

টলিউডের সমস্ত টেকনিশিয়ানদের এবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন দেব। টেকনিশিয়ান্সদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদনই সায় দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান দেব। শনিবার টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োতে 'স্বাস্থ্যসাথী' প্রকল্পের বিশেষ সুবিধা নিতে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেন অনেক টেকনিশিয়ান। এই বিশেষ ক্যাম্প গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব।

তবে স্বরূপ বিশ্বাসের দাবি ‘মেডিক্লেম বেনিফিট অক্টোবরে শেষ হওয়ার পর সংস্কৃতি দফতর থেকে আমাদের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, আমরা যাঁদের এই মেডিকেল বেনিফিট দিতাম, তাঁদের যেন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করি। জবাবে ফেডারেশন জানতে চেয়েছিল, মেডিক্লেম বেনিফিটে যে বিশেষ সুযোগসুবিধা কলাকুশলীরা পান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করলেও কি তাঁরা একইরকম সুযোগ সুবিধা পাবেন? টেকনিশিয়ানদের পরিবারের বেশির ভাগই আগে থেকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাধীন। তাই নতুন করে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে, তা কতটা সাফল্য পাবে তা নিয়ে সংগঠন চিন্তিত। এ ছাড়া, বেশির ভাগ টেকনিশিয়ান তাঁদের গিল্ড এবং ফেডারেশনকে জানিয়েছেন, যে তাঁরা যে ক্যাশলেস মেডিক্লেম বেনিফিট পেতেন, সেই সুযোগসুবিধাই পেতে চান। এতে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের সুবিধা হয়। তাই ফেডারেশন আগের বিমা সংস্থার কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে, আগের প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে হলে কী করতে হবে? এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিমা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।'

Continues below advertisement

স্বরূপের এই মন্তব্যের পরেই দেবকে প্রশ্ন করা হলে তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় স্বরূপকে আক্রমণ করে পাল্টা বলেন, ‘স্বরূপ বিশ্বাসের প্রশ্নের সবচেয়ে ভাল উত্তর দিতে পারেন তাঁর বড় দাদা অরূপ বিশ্বাস। যিনি মন্ত্রী হিসেবে, সমানে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের গ্রামে গ্রামে প্রচার করেছেন। স্বরূপ বিশ্বাসের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প না হলেও তাঁর চলবে। কিন্তু টেকনিশিয়ানদের এটা দরকার।’ মোটর উপর বলা বাহুল্য যে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে উত্তাল টলিপাড়া।