ঐশী মুখোপাধ্য়ায়, মনামী রায় ও কৃষেন্দু অধিকারী, কলকাতা: টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় সংঘাত নতুন নয়। নতুন নয় কর্মবিরতিও। তবে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অকাল মৃত্যু ঐক্যবদ্ধ করেছে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়াকে। কিন্তু, তাল কাটল মঙ্গলবার বিকেলে। ছাই চাপা আগুনের মতো সেই সংহতিকে ছাপিয়ে প্রকট হল সংঘাত। একজন দাপুটে তৃণমূল সাংসদ, আর একজন তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও মন্ত্রীর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। (Dev vs Swarup Biswas)
মঙ্গলবার শুরুটা হয়েছিল স্বাভাবিক ভাবেই। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে কর্মবিরতি প্রত্যাহার এবং 'ম্যাজিক মোমেন্টস'-এর সঙ্গে আপাতত সব কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন রঞ্জিত মল্লিক ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়। সাংবাদিক বৈঠক যখন শুরু হয়, সেই সময় পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দেব এবং ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্য়ান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি স্বরূপ। দু'জনের মাঝে তখন একহাতের দূরত্ব। (Tollywood News)
সাংবাদিক বৈঠকে ঐক্যের কথা শোনা যায় প্রসেনজিতের মুখে। তিনি বলেন, "রাহুল এই পরিবারটাকে এক করে দিয়ে গিয়েছে। পরিবারেরএ ই এক হওয়াটা বোধহয় ও উপর থেকে দেখছে।" কিন্তু এর পরই সরাসরি, প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন দেব এবং স্বরূপ। প্রথমে কথা বলেন দেব। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমদের যে শিল্পীরা কাজ করতে পারছিল না, একটা রাহুল চলে যাওয়ায় আমরা বুঝতে পেরেছি, শুধু চলে যাওয়া নয়, কাজ না করতে দেওয়াও একটা, এমন একটা কষ্ট সেটা আমার মনে হয়েছে যাদের কাজ নেই, তারা বুঝতে পারবে। সেই সিদ্ধান্তও আজ নেওয়া হল। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের উপর থেকে ব্যানটা তুলে নেওয়া হবে বলে আমাকে কথা দিয়েছে।"
দেব আরও বলেন, "আমাদের যে পরিচালক, শিল্পীদের ব্যান করা হয়েছে, যেহেতু আমরা আর্টিস্ট ফোরাম বা ফেডারেশন নই, আমরা একটা ইন্ডাস্ট্রি, একটা ছাদ। অনেকগুলো আর্টিস্ট ব্যানড হয়ে পড়ে আছে। অনেক ডিরেক্টর রয়েছে ব্যানড হয়ে। বুম্বাদা আমাকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়েছে। বুম্বাদা কী করবে, স্বরূপের সঙ্গে কী কথা বলবে, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তারা আবার ফিরবে। বুম্বাদা আমাকে কথা দিয়েছে।"
এর পর কথা বলতে বসে একেবারে ফুঁসে ওঠেন স্বরূপ। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "হঠাৎ করে দেব যে প্রস্তাব করলেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উঠিয়ে দেবে, সেটা যদি আজ থেকে একবছর ৩ মাস আগে এসে উনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেন তাহলে ভাল লাগত। কিছু কিছু আমাদের আর্টিস্ট কাজ করতে পারছেন না তা নিয়ে আমাদের একজন অভিনেতা প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞাতার্থে জানাই আমাদের টেকনিশিয়ানরা লাস্ট এক বছর তিন মাস ধরে কোর্টে নিজেদের অধিকার রক্ষা করার জন্য লড়াই করছেন। তাঁর উচিত ছিল, একবছর আগে এসে এই বিষয়টি জানা। আমরা আমাদের কাজের অধিকার যাতে না পাই তার জন্য তারা কেস করেছিলেন এবং ১ বছর ১০ দিনের মাথায় মহামান্য আদালত সেই কেসটিকে খারিজ করে দিয়েছেন।"
অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যদের ব্যান নিয়ে শাসকের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। কিছুদিন আগেও টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী ঘিরে সংঘাতে জড়ান দেব ও স্বরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার বিকেলেও ধরা পড়ল সেই এক ছবি।
