কলকাতা: অভিভাবকহীন হল ডোরেমন (Doremon), নোবিতা, সিজ়ুকা, জিয়ান, সুনিওরা। যিনি ডোরেমন-কে তৈরি করেছিলেন স্বপ্নপূরণের প্রতীক হিসেবে, সেই ডোরেমনকে আর নিজের ইচ্ছেমতো চালাতে পারবেন না। প্রয়াত হলেন, জনপ্রিয় কার্টুন শো-এর পরিচালক, সুতোমু শিবায়ামা (Tsutomu Shibayama)। মৃত্যুকালে পরিচালকের বয়স হয়েছিল, ৮৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। কাজ করতে পারতেন না জাপানের বর্ষীয়ান এই পরিচালক। ৬ মার্চ জীবনাবসান হয় তাঁর। 

Continues below advertisement

সুতোমু শিবায়ামার প্রতিষ্ঠিত সংস্থার পক্ষ থেকেই তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে আজ। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ধারাবাহিক ডোরেমন-এর পরিচালনায় বহু বছর ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। পাশাপাশি, নিন্তামা রান্তারো ধারাবাহিকেও প্রধান পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অ্যানিমেশনে তাঁর অবদান কখনোই অস্বীকার করা যায় না। 'ডোরেমন'-এর হাত ধরে তিনি গোটা একটা প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন। ছোটরা তাঁর হাত ধরেই বিশ্বাস করতে শিখেছিল, তারাও বোধহয় একদিন পেয়ে যাবে এমন একটা রোবট বিড়ালকে যে তার পেটের পকেটের মধ্যে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সব সমস্যার সমাধান। 

জাপানের অ্যানিমেশন এমনিতেই পৃথিবী বিখ্যাত। আর সেই দেশে বসেই সুতোমু শিবায়ামা এঁকেছিলেন ডোরেমন-এর মতো একটা চরিত্রকে। ধীরে ধীরে দেশের গন্ডি পেরিয়ে, সেই চরিত্র জায়গা করে নেয় গোটা পৃথিবীর মানুষের মনেই। ডোরেমনের পাশাপাশি, নোবিতা, সিজ়ুকা, জিয়ান, সুনিওর মতো চরিত্রদের সঙ্গে সহজেই যেন মিলিয়ে ফেলতে পারত ছোটরা। মনে করত, এমন চরিত্র তো আমার ও। বা ঠিক এমন একজন বন্ধু তো আমার ও রয়েছে। হয়তো সেই কারণেই, ঘরে ঘরে এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল 'ডোরেমন'। 

Continues below advertisement

১৯৬৩ সালে একটি নামী অ্যানিমেশন সংস্থার হাত ধরেই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীকালে অন্য একটি বিশিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।  দর্শকদের উপহার দিতে থাকেন একের পর এক জনপ্রিয় কাজ। পরবর্তীকালে তিনি গড়ে তোলেন নিজের একটি সংস্থা। আর এই সংস্থার হাত ধরেই অ্যানিমেশনের দুনিয়ায় নতুন জোয়ার আনেন তিনি। দর্শক অসম্ভব ভালবাসতে শুরু করেন তাঁর কাজ। শুধু ‘ডোরেমন’ নয়, ‘চিবি মারুকো’, ‘নিন্তামা রান্তারো’-র মতো আরও অনেক জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুতোমু শিবায়ামা। অ্যানিমেশন শিল্পে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে, ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে আজীবন সম্মানে ভূষিত করা হয়।