কলকাতা: ধারাবাহিক 'চ্যাটার্জী বাড়ির মেয়েরা'-তে নতুন চরিত্র। আকাশ আটের এই ধারাবাহিকে পা রাখছে নতুন চরিত্র অরুণ মুখোপাধ্যায়। আর এই চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা ফাহিম মির্জাকে। ছোটপর্দার ভীষণ জনপ্রিয় মুখ ফাহিম। অভিনয় করেছেন একাধিক ধারাবাহিকে। আর এবার, ধারাবাহিক 'চ্যাটার্জী বাড়ির মেয়েরা'-তে পা রাখতে চলেছেন তিনি। সমরেশ মজুমদারের হিরে বসানো সোনার ফুল কাহিনী অবলম্বনে এই ধারাবাহিক পরিচালনা করছেন সুশান্ত দাস। আকাশ আটে প্রতিদিন সন্ধে সাতটা থেকে সম্প্রচারিত হয় এই ধারাবাহিক।
ফাহিম যে চরিত্রে অভিনয় করবেন, পর্দায় তার নাম, অরুণ। অরুণ ছোটপর্দার একেবারে প্রথম সারির নায়ক। তার অভিনয় প্রশংসিত হলেও সে ভীষণ মুডি একজন মানুষ। টলিউডে কান পাতলেই শোনা যায় তিনি নাকি সবসময়েই মদ্যপ অবস্থায় থাকে। অরুণ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রিয় কাজ হল 'শেষের কবিতা'। 'শেষের কবিতা'-র লাবণ্যের চরিত্রের জন্য তিতিরকে পছন্দ হয় অরুণের। কিন্ত তিতির লাবণ্যের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। অরুণ মুখোপাধ্যায়ের বিপরীতে একজন নবাগতা অভিনেত্রী অভিনয় করতে চাইছে না, এই বিষয়টা মেনে নিতে পারে না অরুণ। তিতির কী নিজের অজান্তেই অরুণের শত্রু হয়ে উঠবে? সেই উত্তর মিলবে ধারাবাহিকের গল্পে।
এই ধারাবাহিকে কাজ নিয়ে ফাহিম বলছেন, 'আমি 'চ্যাটার্জী বাড়ির মেয়েরা'- ধারাবাহিকে অরুণ মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছি। হিরে বসানো সোনার ফুল-এর আদলেই চলছে এই ধারাবাহিকের গল্প। তিন নারীর প্রজন্মকে দেখানো হয়েছে এই ধারাবাহিকে। বাড়ির যে মেয়ে, সে নিজে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে কাজকর্ম করতে চায়। স্বনির্ভর হতে চায়। প্রত্যেকটা মেয়েরই যেমন ইচ্ছা থাকে। পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে অরুণ মুখোপাধ্যায়ের গল্পটা। অরুণ একজন সুপারস্টার। সে একটা চাকরি করত। আর সেখানে তাকে দেখে একজন প্রযোজকের পছন্দ হয়। সেখানেই তাঁকে সিনেমা অফার করে সেই প্রযোজক ও তারপরেই বদলে যায় অরুণের জীবন। সেই গল্পটা সুপারহিট হয়। পর পর কাজ করতে থাকে অরুণ, সবকটাই হিট হয়। তখন সেই প্রযোজক অরুণের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু সেই মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ। সেই কারণে অরুণের বৈবাহিক জীবন ভীষণ কঠিন। কিন্তু সে সেই পরিস্থিতি কাউকে বুঝতে দেয় না। এর মধ্যেই অরুণ তার স্বপ্নের কাজে হাত দেয়। রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতা। সেখানে লাবণ্য়ের চরিত্রেরর খোঁজ করতে থাকে সে। তিতিরের একটি অভিনয় দেখে অরুণের তাকে লাবণ্যের চরিত্রের জন্য পছন্দ হয়। ধীরে ধীরে অরুণ আর লাবণ্য কাছে আসতে থাকে। কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি সুখের হবে না। গুরু দত্তের যে গল্প.. সেই ছোঁয়া থাকবে এই গল্পে। এর আগে সাহিত্যের সেরা সময় করেছি আকাশ আটে। খুব ভাল অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সেই কারণেই যখন আমায় এই চরিত্রটা অফার করা হয়, এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলাম।'