কলকাতা: ২০১২ সালের একটি মামলায় অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা (Malaika Arora)-র বিরুদ্ধে জারি হল গ্রেফতারি পরোয়ানা। ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। মুম্বইয়ের কোলাবা এলাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে NRI শিল্পপতি ইকবাল শর্মার উপর হামলার চালানোর অভিযোগ ওঠে অভিনেতা সেফ আলি খান, শিল্পপতি বিলাল আমরোহি এবং মালাইকার ভগ্নীপতি শাহিল লাদাখের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় প্রতক্ষদর্শী হিসেবে মালাইকা অরোরা (Malaika Arora)-কে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা এড়িয়ে গিয়েছেন। সেই কারণেই এবার জামিনযোগ্য ধারায় মালাইকার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মালাইকা অরোরা সেই দলের মধ্যে একজন ছিলেন যারা ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী-র ঘটনাটি ঘটার সময় হোটেলে সেফ আলি খানেদের সঙ্গে ডিনার করতে গিয়েছিলেন। আদালত প্রথমে ১৫ ফেব্রুয়ারি মালাইকা অরোরার বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করে। তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সোমবার এটি পুনরায় জারি করা হয়। আগামী ২৯ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য করা হয়েছে। ব্যবসায়ী ইকবাল মীর শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে সেফ আলি খান এবং আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনজনই। সেফ আলি খানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী করিনা কাপুর খান, বোন করিশ্মা কাপুর, মালাইকা অরোরা, অমৃতা অরোরা, ফ্যাশন ডিজ়াইনার বিক্রম পড়নিশ এবং কয়েকজন পুরুষ বন্ধু হোটেলে ছিলেন।
পুলিশের মতে, মীর শর্মা যখন অভিনেতা এবং তাঁর বন্ধুদের কর্কশ কথাবার্তার প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন সেফ আলি খান তাঁদের হুমকি দিয়েছিলেন এবং পরে মীর শর্মার নাক ঘুষি মেরে ভেঙে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।এনআরআই ব্যবসায়ী সেফ এবং তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে তাঁর শ্বশুর রমন প্যাটেলের ওপর হামলা করারও অভিযোগও করেছিলেন। অন্যদিকে, সেফ দাবি করেছেন যে মীর শর্মা উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন এবং সেফের সঙ্গে থাকা মহিলাদের নিয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এর ফলে গণ্ডগোল হয়েছিল। সেফ এবং তার দুই বন্ধু শাকিল লাদাক এবং বিলাল আমরোহির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলার আগামী শুনানি ২৯ এপ্রিল। সেদিন মালাইকা অরোরা আদৌ কোর্টে হাজির হন কি না, বা তিনি হলেও ঠিক কী কী বলেন সেটাই দেখার। তবে এই মামলায় যেহেতু জামিনযোগ্য ধারায় মালাইকার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, সেজন্য তাঁকে গ্রেফতারির কোনও সম্ভাবনা নেই।