মুম্বই: মাঝে চার বছরের ব্যবধান। ২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। ২০২৬-এ চলে গেলেন আশা ভোঁসলে। দেশের দুই সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী। সম্পর্কে ছিলেন বোন। লতার থেকে বয়সে চার বছরের ছোট আশা। ১২ এপ্রিল রবিবার আশা ভোঁসলে প্রয়াত হলেন। আর যেতে যেতে মৃত্যুপথেও অদ্ভুত এক মিল দিদির সঙ্গে। যা দেখার পর অনুরাগীরাও অবাক!

Continues below advertisement

আসলে ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। প্রায় ২৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রয়াত হয়েছিলেন ভারতের নাইটিঙ্গেল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতার জন্য মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর হয়েছিল লতা মঙ্গেশকরের। আর আশা ভোঁসলে রবিবার ব্রিজ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যাওয়ার পরও চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর হয়েছিলেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী। দুজনেই প্রায় একইভাবে চলে গেলেন। তবে আরও বিরল মিল রয়েছে।

লতা মঙ্গেশকর মারা গিয়েছিলেন ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। সেই দিনটিও ছিল রবিবার। আর তাঁর বোন আশাও চলে গেলেন আরেক রবিবারের সকালকে বিমর্ষ করে দিয়ে। আরও একটা মিল দু'জনের মধ্যে। দিদির মত বোনও চলে গেলেন ৯২ বছর বয়সে। ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল লতা মঙ্গেশকরের। তিনি প্রয়াত হন ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। আর ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হওয়া আশা ভোঁসলে মারা গেলেন ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল। অর্থাৎ দুজনের জন্ম মাসও কিন্তু একই।

Continues below advertisement

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যেয় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন শিল্পী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভর্তি করা হয় মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। রাতে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। রবিবার হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, মাল্টি অর্গান ফেলিওরের কারণে, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন আশা। সঙ্গীত সম্রাজ্ঞীর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানিয়েছেন, ''উনি (আশা ভোঁসলে) আজ মারা গেছেন। কাল (সোমবার) সকাল ১১টায় উনি যেখানে থাকতেন, সেখানে ভক্তরা এসে ওঁর দর্শন করতে পারবেন। কালকে শিবাজি পার্কে ওঁর শেষকৃত্য় হবে।'' ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মরাঠি ছবি ‘মাঝা বল’-এ প্রথম প্লেব্যাক করেন। ১৯৪৮-এ হিন্দি ছবি 'চুনরিয়া'-তে প্রথম গান গাওয়া। এরপর আর ফিরে তাকাননি। একদিন লতার বোন থেকে সবার 'আশা' হয়ে উঠলেন তিনি। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ''ভারতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শিল্পী আশা ভোঁসলের সুরের যাত্রা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবেন এবং তাঁর গান মানুষের জীবনে চিরকাল প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে।''