কলকাতা: প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। তাঁরা কণ্ঠের গানে আজও কোটি মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। তবে, সুরের জগতের কিংবদন্তির ব্যক্তিগত জীবন একেবারে সিনেমার গল্পের মতো। প্রেম থেকে বিয়ে, চলুন জেনে নেওয়া যাক আশা ভোঁসলের জীবনের এক অজানা অধ্যায় সম্পর্কে।
ছোট থেকেই একরোখা। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পছন্দ করতেন বরাবর। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আশা ভোঁসলের জীবনে আসেন গণপতরাও ভোঁসলে। দুজনের বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় ২০ বছর। দিদি লতা মঙ্গেশকরের সচিব হিসেবে কাজ করতেন গণপতরাও। কিন্তু গণপতরাওয়ের সঙ্গে আশার সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি আশার পরিবার। পরিবারের অমতেই বিয়ে করেন আশা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে নেওয়া এই বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছিল আশার গোটা জীবন। শুরু হয় সাংসারিক অশান্তি। বাপের বাড়ির সঙ্গেও সম্পর্কে চি়ড় ধরতে থাকে তাঁর। একটি সাক্ষাৎকারে গায়িকা জানিয়েছিলেন, গণপতরাও চাইতেন না আশা তাঁর বাপের বাড়ির কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
পরবর্তীকালে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কে আরও চিড় ধরে। আশা ভোঁসলে জানিয়েছিলেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা গায়িকাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে পরিবার থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। পাশাপাশি, তাঁর দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা বন্ধ হয়ে গেছিল।
শ্বশুরবাড়িতে অধিকাংশ সময় নানা ভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন তিনি। কেরিয়ার যখন একেবারে তুঙ্গে, চরম ব্যস্ততা আশা তখন ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সঙ্গে তাঁর ২ সন্তান, বর্ষা ভোসলে ও হেমন্ত ভোসলে। কিন্তু এই মানসিক অত্যাচার আর পেরে উঠছিলেন না সঙ্গীতশিল্পী। তাঁর আত্মজীবনী - ‘আশা ভোসলে: আ লাইফ ইন মিউজ়িক’ থেকে জানা যায়, ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
এরপর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর তিন সন্তান এবং কেরিয়ার নিয়ে নতুন ভাবে জীবন শুরু করেন আশা। ১৯৬০ সালে গণপতরাওয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর আশার জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এলেন রাহুলদেব বর্মন। আশার প্রেমে পড়ে যান রাহুল। সঙ্গীতজগতে দুজনের জুটি ছিল বহুলচর্চিত। অবশেষে, রাহুলের প্রস্তাবে ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন তাঁরা।
দ্বিতীয় বিয়ের পরও জীবনটা খুব সহজ ছিল না। ১৯৯৪ সালে মারা যান রাহুলদেব বর্মন। স্বামীর মৃত্যুর পাশাপাশি দুই সন্তানের মৃত্যুর সাক্ষী থাকতে হয়েছিল আশাকে। ২০২২ সালে সবচেয়ে কাছের মানুষ তাঁর লতাদিদির প্রয়াণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এতো কিছুর পরও গানকে কখনও দূরে সরিয়ে দেননি। গানেই খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর বেঁচে থাকার রসদ।
