কলকাতা: পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari) এর আগে একাধিকবার জানিয়েছিলেন, তিনি টলিউডের জন্য কাজ করতে চান। শিল্পী থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা.. প্রত্যেকে যাতে কাজের সুযোগ পান, সেই বিষয়টায় নজর দিতে চান তিনি। আর সেই কারণেই, টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে বিশেষ বৈঠকে বসছেন, পাপিয়া অধিকারী। টালিগঞ্জের কলাকুশলীদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কের বৈঠকে উঠে আসবে কোনও সদর্থক সমাধানসূত্র, এমনটাই মনে করছে টলিপাড়ার একাংশ। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই, পাপিয়া অধিকারী বারে বারে বলেছেন, টলিউডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করেছেন, 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। কে তাঁরা? অরূপ বিশ্বাস আর স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁরাই কার্যত হয়ে উঠেছিলেন টলিউডের সর্বেসর্বা। ভুরি ভুরি অভিযোগ অরূপ স্বরূপের বিরুদ্ধে। সেই বিষয় নিয়েই এদিন কথা হবে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
স্টুডিওপাড়ায় বিশেষ বৈঠক পাপিয়া অধিকারীর
টলিপাড়ায় অরূপ বিশ্বাস আর স্বরূপ বিশ্বাসকে একসঙ্গে বলা হত, 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার পরে, টলিউডে কার্যত রাজ করেছেন, অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাস। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই, টেকনিশিয়ান্সদের অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জানিয়েছেন, কীভাবে একের পর এক কাজ থেকে বাদ পড়েছেন তাঁরা। কীভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ টলিপাড়ায় একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বৈঠক। অংশ নিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী ও অন্যান্য কলাকুশলীরা। কাজ সংক্রান্ত একাধিক কথাবার্তা হতে পারে এই বৈঠকে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
টলিউড নিয়ে কী বার্তা রুদ্রনীলের?
এর আগে, বিজেপির আরেক বিধায়ক, রুদ্রনীল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, 'নতুন বিজেপি সরকারের কাছে সবার প্রত্যাশা একটাই, টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির গুণগত বিকাশ, ভয় ভীতি বা ইন্ডাস্ট্রি বিরোধী নিয়মগুলোর সংস্কার এবং যোগ্যের সম্মান। শুধুমাত্র ফিল্ম-টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি নয়, থিয়েটার যাত্রা, সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রকলা, সাহিত্য, লোকশিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রেও শিল্প-শিল্পীর সম্মান ও উন্নতিও নতুন সরকারের সংকল্প। ভারতীয় জনতা পার্টির এই সরকার সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ক্ষেত্রের অচলাবস্থার পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে বদ্ধপরিকর।' এর আগেও টলিপাড়ার কলাকুশলীদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। সেখানে... ফেডারেশন, তার অধীনে যে টেকনিশিয়ান্সরা আছেন...বিভিন্ন গিল্ড, তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে বা অভাব অভিযোগ শুনতে। সেখানে দেখা যায়, কেউ অভিযোগ করলেন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে, কেউ অভিযোগ করলেন ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে, কেউ অভিযোগ করেন কীভাবে তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে। কেউ আবার অভিযোগ করেন, কথার সঙ্গে কথা না মেলানোয় খুনের পর্যন্ত হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে তাঁকে শুধু বাদ দেওয়াই নয়, ক্লাবে ডেকে তাঁকে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলরকে ডেকে থ্রেট দেওয়া হয়েছে। এমনকী পুলিশ পাঠানো হয়েছে তাঁদের কথার সঙ্গে কথা না মেলানোয়। সব মিলিয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসে বৈঠকে।
আরও পড়ুন: Shreema Bhattacherjee: পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল শ্রীমার! তারপর?
