কলকাতা: বাংলা চলচ্চিত্র জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। উঠতি কলাকুশলীদের কাছে যেমন অভিভাবক, তেমনই সকলের কাছে তিনি 'বুম্বাদা'ও। সেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবার পদ্ম সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। ২০২৬ সালের 'পদ্ম পুরস্কার' প্রাপকদের তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর। প্রসেনজিৎকে 'পদ্মশ্রী' সম্মান দেওয়া হচ্ছে বিনোদন জগতে তাঁর অবদানের জন্য। (Prosenjit Chatterjee)
১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ প্রসেনজিতের। ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায়, বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে 'ছোট্ট জিজ্ঞাসা' ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। মাত্র ছ'বছর বয়সে নিজের অভিনয় ক্ষমতার জন্য একাধিক পুরস্কার জিতে নেন। তবে পড়াশোনার জন্য সেই সময় অভিনয় থেকে সরে আসতে হয়। (Padma Awards 2026)
নায়ক হিসেবে বড়পর্দায় প্রসেনজিতের অবতরণ এর কয়েক বছর পর। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায় বিমল রায় পরিচালিত 'দু'টি পাতা' ছবির। তবে প্রসেনজিৎ তারকা হয়ে ওঠেন ১৯৮৭ সালের 'অমরসঙ্গী' ছবির দৌলতে। মাঝে কয়েকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করলেও, বাংলা চলচ্চিত্র জগৎই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পায় তাঁর কাছে। 'আতঙ্ক', '১৯শে এপ্রিল', 'চোখের বালি', 'দোসর', 'জাতিস্মর', 'মনের মানুষ', 'অটোগ্রাফ', 'বাইশে শ্রাবণ', 'শঙ্খচিল', প্রায় ৪০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছেন।
সম্মানে সম্মানিত হলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মুকুটে যোগ হলো নতুন পালক। হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ছোট্ট জিজ্ঞাসায় শিশু অভিনেতা হিসেবে প্রথম অভিনয়। তারপর দুটি পাতায় নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। প্রায় চার দশকের ফিল্মি কেরিয়ারে ৪০০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। দোসরে অভিনয়ের জন্য জিতেছেন জাতীয় পুরস্কার। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত শঙ্খচিল সেরা বাংলা সিনেমা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতেছে। মনের মানুষ, চোখের বালি, অটোগ্রাফ, জাতিস্মর, সব চরিত্র কাল্পনিক, বাইশে শ্রাবণ- এর মত অসংখ্য ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ে জিতে নিয়েছেন দর্শকদের মন। বাংলা সিনেমায় অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই আজ পদ্ম সম্মানে সম্মানিত হলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
সেই থেকে গঙ্গার বুক দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে, টলিউডেও বহু নায়ক এসেছেন, আবার বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গিয়েছেন অনেকে। কিন্তু প্রসেনজিৎ আগের জায়গাতেই রয়েছেন। বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশিই, এক সময় সমান্তরাল ভাবে 'আর্ট ফিল্ম'স করে গিয়েছেন। আবার প্রয়োজন বুঝে নিজেকে ভেঙেগড়েও নিয়েছেন বার বার। তাই ৬০ পেরিয়েও বাংলা, হিন্দি, দুই ক্ষেত্রেই চুটিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। কাজ ছাড়া থাকেত পারেন না, শ্যুটিং না থাকলে অস্বস্তি হয় বলে জানিয়েছেন নিজেই।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য পুরস্কার, সম্মান পেয়েছেন প্রসেনজিৎ। সেই তালিকায় রয়েছে ‘আনন্দলোক পুরস্কার’ (দোসর, মনের মানুষ), ‘জাতীয় পুরস্কার’ (দোসর), ‘মহানায়ক সম্মান’, ‘বঙ্গবিভূষণ’ ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস’ (শঙ্খচিল, ময়ূরাক্ষী, গুমনামি, শেষ পাতা)। বিনোদন জগতে অবদানের জন্য এবার ‘পদ্মশ্রী পুরস্কার’ পাচ্ছেন।
প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ‘পদ্ম পুরস্কারে’র ঘোষণা করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সাহিত্য, ক্রীড়া, চারুকলা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিক্ষা, সমাজসেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতি মানুষের হাতে ‘পদ্ম পুরস্কার’ তুলে দেওয়া হবে। বিনোদনের জগৎ থেকে সেই তালিকায় নাম রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহাতারকা প্রসেনজিতের।