অর্ণব মুখোপাধ্য়ায়, পার্থপ্রতিম ঘোষ ও সৌমিত্র রায়,কলকাতা: রাহুল বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সমুদ্রে তলিয়ে মৃত্য়ু, ভাসিয়ে দিয়েছে অজস্র প্রশ্ন। ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য়। প্রোডাকশন ম্য়ানেজার দাবি করছেন, প্য়াক আপ হয়ে গেছিল। কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ঘটনার সময়ের ছবি ক্য়ামেরায় ধরা পড়ল কীভাবে? প্রোডাকশন ম্যানেজার বলছেন সঙ্গে সঙ্গে জল থেকে তোলা হয়। অথচ, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত করা হয়েছে, দীর্ঘসময় জলে ডুবে ছিলেন অভিনেতা রাহুল।
এখানেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ঘটনার সময়ের ছবি ক্য়ামেরায় ধরা পড়ল কীভাবে? তাহলে কি কিছু লুকোনো হচ্ছে? অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী বলেন, ওখানে কী আদতে ঘটেছে তো জানি না। এবার একটা ইউনিটে অনেক মানুষ থাকেন, একেকজনের এক একটা বক্তব্য শুনছি। তো প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে মনে জাগছে। ফোরামের তরফে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন বা দাবি জানাচ্ছেন কিনা জানতে চেয়েছি।
সোশাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র লিখেছেন, গিল্ড নিয়ে শ্যুটিং মানে কাজের এবং অকাজের প্রচুর লোক শ্যুটিং লোকেশনে থাকে, ঘুরে বেড়ায়।এত লোকের মাঝে রাহুল জলে ডুবে গেল কিভাবে? ইউনিটের কিছু সদস্য বলছেন, "রাহুল জলে তলিয়ে যাওয়ার অনেক পরে তাকে তোলা হয়"। অন্যদিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার বলছেন "সঙ্গে সঙ্গে জল থেকে তোলা হয়"। কে মিথ্যে বলছেন? কেন বলছেন? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত করা হয়েছে। দীর্ঘসময় জলে ডুবে ছিলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সিরিয়ালের প্রযোজনা সংস্থার অন্য়তম কর্ণধার রাজ্য় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্য়ান লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায়। নানা মহলে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, গোটা রাজ্য়ের নারী নিরাপত্তার দায়িত্ব যাঁর কাঁধে, তাঁর প্রযোজনা সংস্থা একজন অভিনেতাকে রক্ষা করতে পারল না কী করে?
অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, আরও বড় কথার জায়গা হচ্ছে, নাকি শাসকদলের সঙ্গে কার ঘনিষ্ঠতা আছে, সেটাকে দিয়ে পুলিশ প্রশাসন সবকিছু দিয়ে দামাচাপা দেওয়া হবে সত্যটা? এই দায়টা বা নিজেদের গাফিলতিটা সরাবার জন্য বহু লোক এখন থেকেই একটা চেষ্টা শুরু করেছে। একটা কথা ভাসানো শুরু করেছে। যে রাহুল নাকি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যে জলে ওই জায়গায় গেছিল। ইত্যাদি। যা সবৈব মিথ্যা বলে তাঁর সঙ্গে থাকা ওখানকার মানুষজন জানিয়েছেন এবং জানাচ্ছেন। কোনও কিছু চাপা না দেওয়া হয়।
রাহুল বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মৃত্য়ুর পর কার্যত তাঁর ঘাড়েই গোটা দায় চাপিয়েছেন রাজ্য় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্য়ান ও প্রযোজনা সংস্থার অন্য়কম কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায়। 'ম্যাজিক মোমেন্টস' প্রোডাকশন হাউজ অন্য়তম কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,জলে যাওয়ার কোনও দৃশ্য স্ক্রিপেট ছিল না। পরিচালকও চাননি। কিন্তু অভিনেতারা অনেক সময় পারফেক্টশনিস্ট হন। ওই (রাহুল) ড্রোন শট চেয়েছিল। পুরো ঘটনাটা ৫ মিনিটে হয়েছে, হাঁটু জলে হয়েছে। আমরা তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, তখন ওর জ্ঞান ছিল।
কিন্তু এরপরও নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে যদি ধরেও নেওয়া হয়, নিজের ইচ্ছাতেই রাহুল বন্দ্য়োপাধ্য়ায় চলে গেছেন, তাহলে আটকানো হল না কেন? পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সাবধানতা কি নেওয়া হয়নি? যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লাইফ সেভিং গার্ড থাকত, তাহলে কি এটা ঘটত? এর দায় কে নেবে?
