কলকাতা: তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। এই কারণে তাঁকে হামেশাই বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু তাই বলে যে তিনি নিজের মত প্রকাশ করা থামিয়ে দেবেন, তা নয়। কারণ তাঁর লেখার অনুরাগী ও প্রচুর। মাত্র ১ থেকে দুটো লাইনে, কারোর নাম না নিয়ে তিনি সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে যে পোস্টগুলি করেন, তা ইদানিংকালে বেশ চর্চার বিষয় হয়েই দাঁড়িয়েছে। আর এবার তিনি কলম ধরলেন দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)-এর বিয়ে নিয়ে। শুক্র সন্ধ্যায় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন দিলীপ ঘোষ। আর সেই সম্পর্কেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন ঋত্বিক চক্রবর্তী (Ritwick Chakraborty)।
কী লিখলেন ঋত্বিক? তিনি লিখছেন, 'দিল ওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে-র বানানে "দিল"-এর ল-এ উ-কার ছিল?' ব্যাস এই একটাই লাইন। কিন্তু তাঁর রসবোধে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। অনেকেই নিজের নিজের মন্তব্য জানিয়েছেন। নাম না করে ঋত্বিক দিলীপ ঘোষের বিবাহকে তুলনা করেছেন শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) ও কাজল (Kajol) অভিনীত কিংবদন্তি ছবি 'দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে'-র সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় সবাই ঋত্বিকের এই রসবোধের প্রশংসা করেছেন।
অন্যদিকে, বিয়ের আগে জানিয়েছিলেন, 'টেনশন হচ্ছে না'। আর বিয়ের পরে কী অনুভূতি দিলীপের? 'প্রথমবার অভিজ্ঞতা হল, নিঃসন্দেহে। নতুন অভিজ্ঞতা। জীবনে তো আর বিয়ে করিনি, এই প্রথমবার করলাম। আমরা কোনও আড়ম্বর করিনি। সাধারণভাবে ঘরের মধ্য়ে হওয়ার ছিল, সেটা সবাই জেনেছেন। সেভাবেই হয়েছে। আলাদা করে কিছু না। একটা ফরম্যালিটি পুরো হল।' সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রীর মাথায় কাপড় টেনে দিচ্ছেন দিলীপ ঘোষ, এই ছবি দেখেই তো শোরগোল। এই পরিবর্তন কি বিয়েরই অবদান? দিলীপ ঘোষ বলছেন, 'এতদিন তো অনেক কিছুই দায়িত্ব পালন করেছি, স্বামীর দায়িত্ব পালন করার সুযোগ প্রথমবার হল। এটাই অনুশীলন করছি। দেখা যাক কী হয়। এটা তো বিয়েরই একটা অঙ্গ। এটা আমাকেই করতে হবে, অন্য কেউ করতে পারবে না।'।
দিলীপ বিয়ে করছেন, এই কথা পরিবার জানার পরে, তাঁরা কি বলেছিলেন? বিজেপি নেতা বলছেন, 'পরিবার বলতে, মায়ের কাছে বলেছিলাম। মায়ের জন্যই তো সব। এই বাড়িতে আমরা ২০ জন থাকি, কিন্তু একজনই মহিলা, মা। তাঁর ৮৪ বছর বয়স। তাঁকে জল খাওয়াবারও লোক নেই। আমায় কাজে বাইরে যেতে হয়। কয়েকবার এইরকম ঘটনা ঘটেছে যে মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইনিই (রিঙ্কু মজুমদার) আমায় বলেছিলেন, 'আমি আবার জীবনে সংসারী হতে চাই। সাথী চাই।' আমি বলেছিলাম, 'খুব ভাল, করে ফেলো'। তখন ইনি বলেছিলেন, 'না আপনাকেই বিয়ে করতে চাই, আপনি রাজি আছেন কি না..' তখন আমি বলেছিলাম, একটু সময় নিতে দাও। বিষয়টা আমি হজম করি আগে। তারপরে ১-২ মাস সময় লেগে গিয়েছে বুঝতে। তারপরে মা কেও বললাম যে আমি তো তোমায় ছেড়ে যেতে পারছি না, তাহলে কাজ করব কি করে? তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না, তাহলে সমাধানটা কী? আর বিয়ে করা ছাড়া কোনও রাস্তা নেই। মা বলেছিলেন, 'করে ফেল না, অসুবিধা কিসের?' আমি RSS-এর প্রচারক ছিলাম। প্রচারকরা বিয়ে করে না। আমায় ১০ বছর আগে পার্টি সেই জীবন থেকে মুক্তি দিয়েছে। নেতা বানিয়ে দিয়েছে। MLA, MP করে দিয়েছে। মাও সেটাই আমায় বললেন। আমি বলেছিলাম, 'এই বয়সে বিয়ে করব? এই বয়সে কেউ বিয়ে করে না।' ইনি বলেছিলেন, 'আরও ২০ বছর সময় তো আছে।' আমার প্রয়োজন ছিল মায়ের জন্য, ওনারও প্রয়োজন ছিল কাউকে, সংসার জীবন করার জন্য নতুন করে। ঠাকুরের ইচ্ছা ওটাই ছিল বোধহয়। শেষ পর্যন্ত ওটাই হল।'