কলকাতা: পুলিশের চোখে ধুলো দিতে বারবার নাম বদলেছেন। বদল করেছেন আস্তানা। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। ঠাণে থেকে গ্রেফতার করা হল মুম্বইয়ে অভিনেতা সেফ আলি খানের ওপর হামলাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মহম্মদ শরিফুলকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, চুরির উদ্দেশ্যেই সেফের বাড়িতে চড়াও হন তিনি, বাধা পাওয়ায় হামলা চালান অভিনেতার ওপর।
কখনও বিজয় দাস তো কখনও মহম্মদ ইলিয়াস। কখনও বান্দ্রা, কখনও দাদর! নাম থেকে লোকেশন। পোশাক থেকে পরিচয়, বারবার বদলেও শেষরক্ষা হল না! সেফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে তার ওপর হামলার ঘটনায় মুম্বই পুলিশের হাতে ধরা পড়ল মূল অভিযুুক্ত মহম্মদ শরিফুল ইসলাম শাহজাদ। বুধবার মাঝরাতে হামলা...তার ৩ দিনের মাথায়, শনিবার মধ্য়রাতে, সেফ আলি খানের বান্দ্রার বাড়ি থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে, ঠাণের এক শ্রমিক বস্তি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এবিপি নিউজ সূত্রে বলা হচ্ছে, 'মহম্মদ শরিফুল ইসলাম শাহজাদ ভাবতে পারেনি, পুলিশ এত দূরে পৌঁছে যাবে। ও ওভার কনফিডেন্ট হয়ে গেছিল। নিউজ চ্য়াানেল দেখছিল। পুলিশের টিম ছত্তীসগড়ে, রাজস্থানে, ও এগুলো দেখছিল, মনিটর করছিল। ও এটা ভেবে সন্তুষ্ট ছিল, থানের কথা কোনও মিডিয়া দেখাচ্ছে না। ও তাই এই জায়গাটাকে সেফ ভেবেছিল। তাই সেখানেই লুকিয়ে ছিল। এদিকে পুলিশ থানেতে চিরুনি তল্লাশি করেছে। তখন ও ফোন বন্ধ করে দেয়। বুঝতে পারে, পুলিশ বেশি দূরে নেই।'
পুলিশ সূত্রে জানানো হচ্ছে, অভিযুক্তর নাম মহম্মদ শরিফুল ইসলাম শাহজাদ, বয়স ৩০। তদন্তে যেটুকু উঠে এসেছে, অভিযুক্ত চুরির উদ্দেশেই ঘরে ঢুকেছিল। কিন্তু কে এই শরিফুল? পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের বাড়ি বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায়। তদন্তকারীদের অনুমান, বেআইনিভাবে শিলিগুড়ির কাছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এদেশে ঢোকেন তিনি। চলে আসেন মহারাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে প্রথমে কাজ নেন একটি নির্মাণকারী সংস্থায়। এরপর ঠাণের একটি পানশালায় হাউস কিপিংয়ের কাজও করতেন শরিফুল। সূত্রের খবর, যে হোটেলে তিনি কাজ করতেন, সেখানে 'সেরা কর্মচারী'র পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। দিন পনেরো আগে শরিফুল আসেন মুম্বইয়ে।
মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল স্বীকার করেছে, বর্তমানে কাজ না থাকায় চুরি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর সেই উদ্দেশ্যেই সেফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে, সিঁড়ি ভেঙে চলে গেছিলেন একদম ১২-তলায়। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, সেফ আলি খানকে আগে থেকে চিনতেন না শরিফুল। বাড়ির ভিতর ঢুকতেই সেফের গৃহকর্মী তাঁকে দেখে ফেলেন। গৃহকর্মীর চিৎকারে বেরিয়ে আসেন সেফ। আর তারপরেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ধারালো অস্ত্র। অন্যদিকে, লীলাবতী হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন অভিনেতা সেফ আলি খান।