নয়াদিল্লি: জনপ্রিয় নায়িকার রহস্যমৃত্যু ঘিরে দু’দশক পর নতুন করে টানাপোড়েন। ‘সূর্যবংশম’ খ্যাত নায়িকা সৌন্দর্যর মৃত্যুতে এবার অভিযোগ দায়ের হল তেলুগু অভিনেতা মোহনবাবুর বিরুদ্ধে। সৌন্দর্যর মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়, তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খুনের নেপথ্য কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মোহনবাবুর সঙ্গে সৌন্দর্যের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদকে। (Telugu superstar Soundarya)
অন্ধ্রপ্রদেশের খম্মামে মোহনবাবুর বিরুদ্ধ অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সৌন্দর্যর মৃত্যুতে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে নতুন করে। অভিযোগকারী চিট্টিমল্লুর দাবি, শামশাবাদ গ্রামে সৌন্দর্যদের ছয় একর জমি ছিল। সেই জমি বিক্রির জন্য লাগাতার সৌন্দর্য এবং তাঁর ভাই অমরনাথের উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন মোহনবাবু। সৌন্দর্য এবং তাঁর ভাই নতিস্বীকার করেননি। সেই নিয়ে চরমে পৌঁছয় সংঘাত। সৌন্দর্যর মৃত্যুর পর জোরপূর্বক ওই জমির দখল নেন মোহনবাবু। থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও, এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মামলা শুরু হয়নি। কিন্তু প্রায় দু’দশক পর নতুন করে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। (Soundarya Death Investigation)
অভিনেত্রী সৌন্দর্যের আসল নাম সৌম্যা সত্যনারায়ণ। তেলুগু ছবিতেই অভিনয় করতেন মূলত, কিন্তু সর্বভারতীয় স্তরে পরিচিতি তৈরি হয় অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘সূর্যবংশম’ ছবিতে অভিনয়ের দরুণ। ২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সৌন্দর্য। সেই সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩১ বছর। ওই প্রাইভেট বিমানে সওয়ার ছিলেন তাঁর ভাইও। বিজেপি-র হয়ে করিমনগরে প্রচারে যাওয়ার সময় এক ইঞ্জিনের Cessna 180 বিমানটি ভেঙে পড়ে। সৌন্দর্য সেই সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা যায়। দুর্ঘটনার পর সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়, ফলে সৌন্দর্যর দেহ পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি।
মৃত্যুর আগে সবে বিজেপি-তে যোগদান করেছিলেন সৌন্দর্য। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে বিয়েও সারেন তিনি। ২০০৩ সালে সফ্টওয়্যার এগজিকিউটিভ রঘুকে বিয়ে করেন সৌন্দর্য। দলের হয়ে প্রচারে অংশ নিতেই প্রাইভেট বিমানে চেপে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বেঙ্গালুরুর কাছে গাঁধী কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ভেঙে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনার পর আগুনের লেলিহান শিখায় ঢেকে যায় চারিদিক। সেই আগুনের গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি কেউ। সৌন্দর্য, তাঁর ভাই অমরনাথ, বিজেপি কর্মী রমেশ কদম এবং জয় ফিলিপস নামের পাইলট, সকলের দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফলে শনাক্তকরণও সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যান কর্নাটকের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি। রাজনৈতিক সভাও বন্ধ করে দেয় বিজেপি। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ী সৌন্দর্যর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন। ২০ বছর পর সৌন্দর্যর মৃত্যু আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এল। পাশাপাশি, মোহনবাবু এবং তাঁর ছোট ছেলে মাঞ্চু মনোজের মধ্যেও সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।