মুম্বই: যতদিন গড়াচ্ছে , ততই রহস্য ঘনাচ্ছে অভিনেত্রী  ত্বিশা শর্মার মৃত্যু ঘিরে। শেষ কয়েক ঘণ্টায় ঠিক কী ঘটেছিল? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। তদন্তকারীরা কী জানতে পারলেন? কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য এল সামনে?  গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ত্বিশা শর্মাকে। গত ডিসেম্বরেই আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর।  মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই হোয়াটসঅ্যাপে মাকে ত্বিশা জানিয়েছিলেন, তিনি এই বিয়েতে তাঁর দমবন্ধকর অবস্থার কথা।  অভিযোগ করেছিলেন মানসিক নির্যাতন এবং পণের জন্য চাপেরও। ত্বিশা র বাবার দাবি, তাঁর ৩৩ বছরের মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন-সহ একাধিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল।

Continues below advertisement

এদিকে, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে ত্বিশার পরিবার। তাঁদের দাবি, ত্বিশার মৃত্যুর তিন দিন পরে FIR দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জবলপুর হাইকোর্টে আগাম জামিন খারিজ হওয়ার পর ত্বিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে হেফাজতে নেয় সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। এর আগে, প্রায় ১০ দিন পলাতক থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিং,  গিরিবালা সিংয়ের ছেলে।  সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পূর্ণ তদন্তভার CBI-র হাতে তুলে দেয়, যাতে দ্রুত এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর মধ্যপ্রদেশ পুলিশের দায়ের করা FIR নতুন করে নথিভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই FIR-এ অভিযুক্তরা হলেন সমর্থ সিং এবং গিরিবালা সিং। সূত্রের খবর, ত্বিশা র মৃত্যুর আগে শেষ কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনের জন্য অত্যাধুনিক “tunnel view” তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করছে CBI।  এই পদ্ধতিতে ত্বিশা র শেষ মুহূর্তের নড়াচড়া, কার সঙ্গে কথা হয়েছিল, ডিজিটাল অ্যাক্টিভিটি—সবকিছুর একটি মিনিটে-মিনিটে টাইমলাইন তৈরি করা হচ্ছে। ডিজিটাল রিকনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ত্বিশার শেষ গতিবিধি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, কে কোন ঘরে ঢুকেছিল বা বেরিয়েছিল এবং ঘটনার আগে ঠিক কী কী ঘটেছিল, তার পূর্ণ ক্রম নির্ধারণের চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

Continues below advertisement

সূত্রের দাবি, CCTV ফুটেজ, মোবাইল ফোন রেকর্ড, Wi-Fi লগ, কল ডিটেল রেকর্ড—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ির তিনটি তলার ঘরগুলির ফরেন্সিক ম্যাপিংও করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন সন্দেহজনক সময়ের ফাঁক, অস্বাভাবিক গতিবিধি এবং অভিযুক্তদের বয়ানে থাকা সম্ভাব্য অসঙ্গতির দিকে।  প্রথমে যেটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হয়েছিল, এখন সেই মামলাতেই একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। পোস্টমর্টেমের সময় একটি বেল্ট নিখোঁজ থাকার অভিযোগ, আঘাতের বিবরণে ফাঁক, উচ্চতার তথ্যের অসঙ্গতি, FIR-এ পরস্পরবিরোধী তথ্য এবং CCTV ফুটেজের সময় নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।