কলকাতা: দুটি ছবি, দু-রকম। সেফ আলি খানের (Saif Ali Khan) ওপর হামলাকারীর ছবি জুড়ে এমনই জল্পনা ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। অনেকেই সন্দেহপ্রকাশ করেছিলেন, পুলিশ আদৌ ঠিক লোককে গ্রেফতার করেছে তো? শুধু নেটদুনিয়া নয়, সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন ধৃত শরিফুল ইসলামের বাবাও। এবিপি আনন্দের প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ থেকে শরিফুল ইসলামের বাবার স্পষ্ট জানিয়েছিলেন সেফ আলি খানের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় যে ছেলেটিকে দেখা গিয়েছে আর যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে দুজন আলাদা ছেলে। তাঁর ছেলেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে বটে, কিন্তু সেফ আলি খানের বাড়ির ক্যামেরায় যে ছবি দেখা যাচ্ছে, সেই ছেলে আর এই ছেলেটি এক নয়। কিন্তু কেন এই সংশয়? সদ্য সেফ আলি খানের ওপর হামলাকারী শরিফুল ইসলামের দেওয়া বয়ানে পরিষ্কার হল সবটা। 


শরিফুল ইসলামের বাবা জানিয়েছিলেন, সেফ আলি খানের বাড়ির ক্যামেরায় যে ব্যক্তি ধরা পড়েছে, সেই ব্যক্তি তাঁর ছেলে নয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন ওই ব্যক্তির বড় চুলের কথা। শরিফুলের বাবার দাবি, ক্যামেরায় দেখা ব্যক্তির চুল এত বড় ছিল যে তার প্রায় চোখ ঢেকে যাচ্ছিল। কিন্তু তার ছেলে কখনও এমন বড় চুল রাখে না। কিন্তু সদ্য জেরায় শরিফুল জানিয়েছে, চুরির ঘটনা ঘটানোর পরে বান্দ্রা স্টেশন থেকে চার্চগেটগামী ট্রেনে ওঠে শরিফুল। তিনি যখন ওরলি পৌঁছন, তখন দেখেন গোটা ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। সেই সময়ে শরিফুল বোঝেন, তার চেহারা বদল করার সময় এসেছে। তিনি একটি সেলুনে গিয়ে চুল কাটিয়ে ফেলেন। বদলে ফেলেন হেয়ার স্টাইলও। চুলে রঙ করিয়ে নেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের জালেই ধরা পড়ে শরিফুল ইসলাম। 


জানা যাচ্ছে, শরিফুল দীর্ঘদিন থেকেই বাড়ি ছাড়া। সেই কারণেই তার বাবা তার চুলের স্টাইল সম্পর্কে অবগত ছিল না। আরও জানা যাচ্ছে, শরিফুল মনে করেছিলেন কিছু টাকা চুরি করে নিয়ে তিনি বাংলাদেশে পালাবেন। সেফের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে শরিফুল টাকাই দাবি করেছিলেন। তবে সেফ চলে আসার পরে শরিফুল তার ওপর হামলা চালায়। ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হন সেফ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাড়ি ফিরলেও রয়েছেন বিশ্রামে।


আরও পড়ুন:Saif Ali Khan: শরিফুল একা নয়, সেফের ওপর হামলার ঘটনায় কী যুক্ত আরও কেউ?