কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা চওড়া বার্তা, তাতে কখনও পহেলগাঁও হামলার কথা, কখনও আবার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের কথা। কখনও কখনও কথা রয়েছে রাজনীতি নিয়েই। হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমনই একটি লম্বা চওড়া বার্তা। আর সেই বার্তার শেষে লেখা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shiboprosad Mukherjee) নাম ও পরিচয়। কিন্তু এই বার্তা কি আদৌ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের? এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বার্তা ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরেই মুখ খুলল টিম 'উইন্ডোজ'। 

আজ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আর নন্দিতা রায়ের (Nandita Roy) প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম করে একটি বড় বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা আমাদের তরফ থেতে জানাতে চাই, এই বার্তাটা একেবারে ভুয়ো ও অর্থহীন। কেউ একজন, বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামের অপব্যবহার করছেন। আর এই অপব্যবহার করেই ছড়িয়েছেন ভুয়ো তথ্য। আমরা আমাদের অনুরাগী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে জানাতে চাই, এই ধরণের মেসেজ শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কোনও কিছু শেয়ার করার আগে একবার সেটার সত্য মিথ্যা যাচাই করে নিন।'

সদ্য মুক্তি পেয়েছে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অভিনীত ও নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ পরিচালিত ছবি 'আমার বস'। এই ছবিতে মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাখী গুলজার। রাখী গুলজারের সঙ্গে অভিনয় করা ও তাঁকে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা নিয়ে শিবপ্রসাদ বলছেন, 'আমি ধন্য যে আমি রাখীজির সঙ্গে কাজ করেছি। আমি ওঁকে ফোন করেছিলাম ছবির গল্প শোনানোর জন্য। তারপরে বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতেই উনি সুকুমার রায়ের কবিতার আদলে আমায় ঠিকানা বোঝালেন। তখনই বুঝে গিয়েছিলাম আমি যাঁর সঙ্গে কাজ করতে চলেছি তিনি আমাদের থেকে অনেক বেশি বাঙালি। বাংলার মাটির যে সুগন্ধ, সেটা ওঁর ঘরের মধ্যে রয়েছে। উনি শর্ত দিয়েছিলেন পুরো গল্পটা আমায় পড়ে শোনাতে হবে। আমি রাজি হয়ে যাই। আমি স্ক্রিপ্ট লেখে দিদির বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। বাকিটা ইতিহাস। দিদি দেখলাম চরিত্রের কস্টিউম নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিলেন। তখনই আমার মনে হয়েছিল, দিদি কাজটায় রাজি হবে। উনি ছবিটার মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। তারপরে আমি দিদিকে ফোন করেছিলাম, বলেছিলাম আমি হিরো। দিদি আমায় বলেছিলেন, তোমার পেট আগে যায়, মুখ পরে। অথচ দিদিই আমায় শর্ত দিয়েছিলেন, উনি ছবিটা তখনই করবেন যখন আমি ছেলের চরিত্রে অভিনয় করব। তারপরে আমার একটা নতুন ক্লাস শুরু হয়েছিল। পাতে আলু থাকলে দিদি রাগ করতেন। তবে শ্যুটিং-এর শেষের দিনটা গোটা ইউনিট কাঁদছিল। সবাই দিদির থেকে এত ভালবাসা পেয়েছিলাম।'