৯৮ বছর বয়সে অর্থনীতিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি পেলেন ইনি!
এ প্রজন্মের প্রতি তাঁর পরামর্শ, কখনও হাল ছেড়ো না। চেষ্টা করে যাও। তাঁর আগামী পরিকল্পনা কী? রাজকুমার বলেছেন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি লাভের বহুদিনের বাসনা পূরণ হয়েছে। আরও পড়তে চাই। লেখালেখি করতে চান দারিদ্র্য, বেকারির মতো গভীর সমস্যা নিয়ে।
সম্প্রতি হুইল চেয়ারে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ডিগ্রি গ্রহণ করেন রাজকুমার। দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানায়। অভ্যর্থনা গ্রহণ করে তিনি জানান, সুস্থ থাকতে প্রিয় রসগোল্লা খাওয়া ছেড়েছেন। দৈনিক ৬ ঘন্টা পড়াশোনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, প্রথমদিকে লিখতে অসুবিধা হত। চার-পাঁচ পৃষ্ঠার পর লিখতে পারতাম না হাত কাঁপত বলে। তাই পরীক্ষা হলের মতো বাড়িতে ডেস্ক-বেঞ্চ আনাই। রোজ লেখার অনুশীলন করি। এভাবে টানা ৩৪ পৃষ্ঠা লেখার শক্তি পেয়েছি।
রোজের রুটিন, খাদ্যাভ্যাস বদলে অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি।
পটনায় থাকেন। চার দশক আগে চাকরি থেকে অবসর নেন। ১৯৪০-এ আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের স্নাতক ডিগ্রি পেয়েছিলেন। তারপর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সঙ্গে যোগ ছিল না। কিন্তু আরও পড়াশোনা, জানার স্পৃহা মরে যায়নি। ২০১৫-য় ৯৬ বছর বয়সে ভর্তি হন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের ক্লাসে।
বয়স ৯৮। কিন্তু বার্ধক্য নিঃশেষ করতে পারেনি রাজ কুমার বৈশ্যের অদম্য প্রাণশক্তি। শতবর্ষের দুয়ারে দাঁড়িয়েও জ্ঞানচর্চা চলছে তাঁর। অর্থনীতিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি পেলেন তিনি। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।