মে মাসের চড়চড় করে বাড়তে থাকা পারদ ও তীব্র দাবদাহে নাজেহাল দশা দেশের সাধারণ মানুষের। এই চরম গরমে দিকে দিকে দেখা দিচ্ছে হিটস্ট্রোক (Heat Stroke) ও ডিহাইড্রেশন (Dehydration) বা জলশূন্যতার মতো মারাত্মক সমস্যা। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে ইতিমধ্যেই গরমজনিত অসুস্থতা নিয়ে রোগীর ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কোন উপায়ে এই তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন থেকে দূরে থাকবেন, জেনে নিন।
পশ্চিমবঙ্গেও গরমের দাপট কম নয়। শুষ্ক গরম হোক বা অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম, একটু অসাবধান হলেই যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে এইমসের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ ও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
হিটওয়েভ বা তীব্র গরম থেকে বাঁচতে এইমসের চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ:
- দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন: এইমসের মেডিসিন বিভাগের অতিরিক্ত অধ্যাপক, ড. পীযূষ রঞ্জন জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই খুব জরুরি কাজ না থাকলে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪-৫টা পর্যন্ত রোদ ও গরমের মধ্যে বাইরে বেরনো এড়িয়ে চলাই ভাল।
- বাইরে বেরনোর প্রস্তুতি: ড. পীযূষ রঞ্জনের পরামর্শ, যদি রোদে একান্তই বাড়ির বাইরে বেরতে হয়, তবে শরীর ঢাকা ঢিলেঢালা সুতির ফুল-হাতা জামাকাপড় এবং ফুল প্যান্ট পরাই শ্রেয়। মাথা ও মুখ ঢাকতে টুপি, স্কার্ফ বা ওড়না ব্যবহার করুন। সঙ্গে অবশ্যই ছাতা রাখুন।
- আগে থেকেই জল পান করে বাড়ির বাইরে যান: বাড়ি থেকে বেরনোর ঠিক আগে পর্যাপ্ত জল পান করা উচিত। রোদে যাওয়ার আগে অন্তত ১ থেকে ২ লিটার জল খাওয়া জরুরি, যাতে শরীর আগে থেকেই হাইড্রেটেড থাকে।
- শুধু সাধারণ জল নয়, প্রয়োজন নুন-চিনির জল: এইমসের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডয় নীরজ নিশ্চল এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে শুধু জল নয়, প্রচুর পরিমাণে জরুরি নুন বা লবণও বেরিয়ে যায়। তাই শুধু সাধারণ জল খাওয়া যথেষ্ট নয়। জলের সঙ্গে ওআরএস (ORS) বা ইলেকট্রোলাইট মিশিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী।
- বাঙালি ঘরোয়া পানীয়: শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং জলের ঘাটতি মেটাতে ওআরএস-এর পাশাপাশি আমাদের পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু ঘরোয়া পানীয় যেমন- বেলের শরবত, লেবুর জল (শিকঞ্জি) এবং ডাল বা টক ডালের জল বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক নীরজ নিশ্চল।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন?
চিকিৎসক নীরজ নিশ্চল জানান, গরমে শরীর খারাপ হতে শুরু করলে সাধারণত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব এবং রক্তচাপ (Blood Pressure) কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হলে ‘হিটস্ট্রোক’ হতে পারে। যাকে সাধারণ ভাষায় আমরা ‘লু লাগা’ বলি। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মক বেড়ে যায়, রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে, এমনকি খিঁচুনিও উঠতে পারে।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসকদের মতে, এই তীব্র গরমে প্রবীণ নাগরিক (বয়স্ক মানুষ), শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের (Heart Disease) মতো ক্রনিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের অতিরিক্ত সাবধানে থাকা প্রয়োজন।
