থাইরয়েড-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত টিপস:আজকের দ্রুত জীবনযাত্রা এবং জীবনযাত্রার অবনতির কারণে থাইরয়েড ডিসঅর্ডার একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই অবস্থায় বেশি প্রভাবিত হন দেখা যায়। থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাক এবং শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু যখন এটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, তখন ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।

Continues below advertisement

পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ দাবি করে যে যোগা এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যার মূলে পৌঁছানো যেতে পারে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য, নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়:

  • উজ্জায়ী প্রাণায়াম: থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হিসাবে বিবেচিত হয়। এই কৌশলে, গলা সামান্য চেপে শ্বাস নেওয়া হয়, যা সরাসরি থাইরয়েড গ্রন্থিকে প্রভাবিত করে।
  • সর্বাঙ্গাসন এবং হলাসন: এই আসনগুলি অনুশীলন করলে গলার অঞ্চলে রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত হয় এবং থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
  • সিংহাসন (সিংহ ভঙ্গি): এই ভঙ্গিটি গলার পেশী সক্রিয় করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে খুব উপকারী।
  • মৎস্যাসন (মাছ ভঙ্গি): এই আসনটি ঘাড়ে টান সৃষ্টি করে, যা থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আয়ুর্বেদ এবং খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব

Continues below advertisement

যোগাভ্যাস ছাড়াও, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং প্রাকৃতিক ওষুধগুলি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে পারে। পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের মতে, ত্রিকটু চূর্ণ এবং কনকনার গুগগুলু-এর মতো ভেষজগুলি থাইরয়েড ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় সহায়ক।

এছাড়াও, ধনে বীজ ভেজানো জল পান করা একটি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে বিবেচিত হয়। দুই চা চামচ শুকনো ধনে বীজ এক গ্লাস জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন, তারপর সকালে এটি ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে পান করতে পারেন। এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন অপরিহার্য

থাইরয়েড কেবল একটি শারীরিক অসুস্থতা নয়, এটি জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যাধিও। পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত ব্যায়ামকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে তোলা অপরিহার্য। যোগাভ্যাস এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসার নিয়মিত অনুশীলন কেবল হরমোনের ভারসাম্যই বজায় রাখে না, মানসিক শান্তিও প্রদান করে।

প্রতিবেদনটি  সংস্থার বক্তব্য ও দাবি অনুসারে উল্লেখিত হয়েছে। মেনে চলবেন কি না, তা বিচার-বিবেচনা করুন ও প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।