কোভিডের ভয়াবহ দিন, মৃত্যু মিছিল, আতঙ্ক, এখনও সারা বিশ্ব ভোলেনি। কোভিড থেকে সেরে তো উঠেছেন অনেকেই। কিন্তু কোভিড কি সবাইকে নিস্তার দিয়েছে? ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস শরীরে এমন কিছু কাণ্ড ঘটিয়ে গিয়েছে, যার জেরে সারা জীবনের মতো ঘটে গিয়েছে বড় ক্ষতি। যত দিন গড়াচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে আসছে গবেষণায়।  নতুন এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ সেরে গেলেও , পরে দেখা গিয়েছে , কোভিডের খারাপ প্রভাব পড়েছে তাঁর রক্তনালীতে। বয়স বাড়াপ প্রভাব সারা শরীরের উপরই পড়ে। মানুষের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও 'বুড়ো হয়'। এক গবেষণা বলছে,  এক জন মানুষের রক্তবাহিকাগুলির বয়স এক ধাক্কায় পাঁচ বছর বাড়িয়ে দিয়েছে কোভিডের হানা । অর্থাৎ খাতায় কলমে একজনের যা বয়স, তা থেকে তার রক্তবাহিকাগুলোর বয়স বছর পাঁচেক গিয়েছে বেড়ে। এই সমস্যা বেশি হয়েছে মহিলাদের ক্ষেত্রে।

কোভিড আক্রমণের র লং-কোভিড নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কোভিড শ্বাসকষ্ট এবং ক্লান্তির মতো গভীর ক্ষত বা ক্ষতি ছেড়ে গিয়েছে শরীরে। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরেও যেসব মহিলারা ক্রমাগত এই লক্ষণগুলি অনুভব করেছেন, তাঁদের উপর পরীক্ষা চালিয়েই এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস সিটির প্রধান গবেষক রোজা মারিয়া ব্রুনো জানিয়েছেন, কোভিড অতিমারীর পরে অনেক লক্ষণ আক্রান্তের মধ্যে কয়েক মাস থেকে গিয়েছে। এমনকি বছরের পর বছর ধরে স্থায়ী হতে পারে কিছু লক্ষণ । ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা করা হয়েছে। রিসার্চের আওতায় রাখা হয়েছে,  অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল এবং ইউরোপের ১৬টি দেশের প্রায় ২,৪০০ জনকে। মোট স্যাম্পলের প্রায় অর্ধেক নারী। গবেষকরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তনালীগুলি শক্ত হয়ে যায় । কোভিড-১৯ সংক্রমণ এই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এর ফলে কোভিডে আক্রান্তদের মধ্যে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

গবেষণায়  'carotid-femoral pulse wave velocity'. মাপা হয়। এই প্যারামিটার রক্তনালীগুলির অবস্থা নির্দেশ করে।  এই রিসার্চে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ছয় মাস পরে এবং  ১২ মাস পরে  'ক্যারোটিড-ফিমোরাল পালস ওয়েভ' নেওয়া হয়েছিল।  গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হালকা সংক্রমণে আক্রান্ত মহিলাদের pulse wave velocity প্রতি সেকেন্ডে ০.৫৫ মিটার, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মহিলাদের প্রতি সেকেন্ডে ০.৬০ মিটার এবং কোভিডে বেশি অসুস্থ হওয়া  মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রতি সেকেন্ডে এক মিটারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কোভিডের প্রভাবে মহিলাদের pulse wave velocity-তে যতটা পার্থক্য তৈরি হয়েছে, পুরুষদের মধ্যে ততটা প্রভাব পড়েনি। 

গবেষক ব্রুনো বলেন, পুরুষদের তুলনায় নারীরা শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ফলে দ্রুত  সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছে ঠিকই,  কিন্তু প্রাথমিক সংক্রমণের পরে রক্তনালীতে ক্ষতি হয়েছে  মহিলাদেরই বেশি। এগুলোকেই  পরবর্তী COVID-19 সিনড্রোম বলে।