ইবোলা (Ebola) নিয়ে উদ্বেগ আকাশছোঁয়া। সারা পৃথিবীর নানা দেশেই ছড়িয়েছে আতঙ্ক। আফ্রিকার একাধিক দেশে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সতর্ক হয়েছে ভারতও। ইবোলার উপসর্গগুলি নিয়ে সতর্ক দেশবাসী। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ( Nagpur )  উগান্ডা থেকে ফেরা এক ৪৭ বছরের ব্যক্তিকে ২১ দিনের জন্য হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরেও জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। এর আগে বেঙ্গালুরুতে ( Bengaluru ) উগান্ডা ফেরত এক মহিলাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।  স্বাস্থ্য দফতর এখন আফ্রিকা ফেরত যাত্রীদের উপর বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।

Continues below advertisement

নাগপুরে কড়া নজরদারিতে উগান্ডা ফেরত ব্যক্তি

নাগপুর পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উগান্ডা থেকে ফেরা ওই ব্যক্তির শরীরে এখনও পর্যন্ত ইবোলার কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি। তবুও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁকে ২১ দিনের জন্য হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন যে তিনি উগান্ডায় থাকার সময় কোনও এবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসেননি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেডিক্যাল টিম তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর সারাক্ষণ নজর রাখছে। যদি কোনও উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Continues below advertisement

বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি নাগপুরে

Government Medical College and Hospital Nagpur-এ বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দাবি, বর্তমানে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে সংক্রমণ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

WHO-র সতর্কতার পর নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব

World Health Organization গত ১৭ মে আফ্রিকার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা পরিস্থিতিকে “Public Health Emergency of International Concern” বা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে  আফ্রিকার উগান্ডা ও কঙ্গো ( Uganda এবং Democratic Republic of the Congo ) তে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। WHO-র ডিরেক্টর জেনারেল Tedros Adhanom Ghebreyesus জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৯০০-র বেশি সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং ২২০-রও বেশি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।

ভারতে এখনও কোনও নিশ্চিত আক্রান্ত নেই

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ভারতে কোনও নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বেঙ্গালুরুতে যে ২৮ বছরের মহিলাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য National Institute of Virology-এ পাঠানো হয়। পরে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের কারণে ঝুঁকি এড়াতে আফ্রিকা ফেরত যাত্রীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

কীভাবে ছড়ায় ইবোলা ভাইরাস?

বর্তমানে সংক্রমণগুলি হচ্ছে Bundibugyo strain-এর ভাইরাসের কারণে। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। রক্ত, ঘাম, বমি, মল বা শরীরের অন্য তরলের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচর্যায় যুক্ত মানুষদের ঝুঁকি বেশি থাকে।

কেন এত সতর্কতা?

ইবোলা অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাল রোগ হিসেবে পরিচিত। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যুহার অনেক বেশি হতে পারে। এই রোগে সাধারণত জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, বমি এবং রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে,  Bundibugyo strain-এর জন্য এখনও পূর্ণাঙ্গ অনুমোদিত ভ্যাকসিন নেই। সেই কারণেই ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

কীভাবে চিনবেন ইবোলা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবোলার প্রথম দিকের উপসর্গ অনেকটাই সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো হওয়ায় রোগ নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন RT-PCR পরীক্ষার উপর। এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলি হতে পারে - 

  • জ্বর
  • শরীর ব্যথা
  • দুর্বলতা
  • বমি
  • ডায়রিয়া
  • মাথাব্যথা

এই কারণে শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে এবোলা শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত RT-PCR পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।