আপনি কি উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির রোগে ভুগছেন ? তাহলে আপনার প্লেটে একটি আপেল বা এক বাটি সবুজ শাক-সবজি ওষুধের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। হ্যাঁ, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল এবং শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করলে কেবল কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় না, বরং রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে। আমেরিকার অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই গবেষণায়, উচ্চ রক্তচাপ এবং ম্যাক্রোঅ্যালবুমিনুরিয়ায় আক্রান্ত ১৫৩ জন রোগীকে তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছিল।

গ্রুপ ১ – প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ২-৪ কাপ অ্যাসিড-হ্রাসকারী ফল এবং শাকসবজি যোগ করা হয়।

গ্রুপ ২ – ৪-৫টি ট্যাবলেট (৬৫০ মিলিগ্রাম) সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (বেকিং সোডা) দিনে দুবার দেওয়া হয়।

গ্রুপ ৩ – শুধুমাত্র সাধারণ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

ম্যাক্রোঅ্যালবুমিনুরিয়া কেন বিপজ্জনক ?

এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের লক্ষণ। এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনি ফেলের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

গবেষণার ফলাফল-

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফল ও শাকসবজি এবং সোডিয়াম বাইকার্বোনেট উভয়ই কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। তবে, শুধুমাত্র ফল ও শাকসবজি রক্তচাপ কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ছিল। বেকিং সোডা এই দু'টি সুবিধা প্রদান করেনি।

ওষুধের ডোজও কমেছে

আরেকটি বড় সুবিধা ছিল যে, ফল এবং শাকসবজি খাওয়ার ফলে রক্তচাপ এবং হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পরিমাণ কমাতে হয়েছিল। অর্থাৎ, ওষুধের ডোজ কমিয়েও রোগী ভালো ফলাফল পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের রায়

গবেষণায় জড়িত এক চিকিৎসকের মতে, "রোগী বেকিং সোডা এবং ফল ও সবজি উভয় থেকেই কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পেতে পারেন, কিন্তু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ কেবল ফল এবং শাকসবজি দিয়েই সম্ভব। তাই, উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য এগুলোকে মৌলিক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।”

রোগীর কী করা উচিত ?

  • প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ২-৪ কাপ সবুজ শাকসবজি, শসা, টোম্যাটো, গাজর, পেঁপে, আপেল, কমলা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করুন।
  • জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন।

যদি আপনি উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির রোগে ভুগছেন, তাহলে আপনার প্লেটে ফল এবং শাকসবজি যে কোনো ওষুধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।