কিডনির রোগ বড় একটা জানান দিয়ে আসে না। আসে চুপিসাড়েই। এর লক্ষণ  ঠিকঠিক বুঝতে বুঝতে অনেক সময়ই দেরি হয়ে যায়।  সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবিটিস অ্যান্ড কিডনি ডিজ়িজ়-এ প্রকাশিত সমীক্ষার তথ্য বলছে, ভারতে মহিলারা কিডনির রোগে বেশি ভোগেন। আর কিডনির অসিখের রিস্ক এজ?  বয়স চল্লিশ পেরোলেই হতে হবে সতর্ক , বলছেন চিকিৎসকরা।  অনেকেই চেনেন না কিডনির অসুখের এই লক্ষণগুলো , কেউ কেউ আবার  নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যথেষ্ট উদাসীন। তার উপর সচেতনতার অভাবে উপসর্গ এড়িয়ে যান অনেকেই। তবে একটু সতর্ক থাকলেই কিডনির ক্রনিক অসুখ প্রতিরোধ করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

নাসিকের কনসালটেন্ট নেফ্রোলজিস্ট এবং ট্রান্সপ্লান্ট ফিজিশিয়ান ( মানবতা হাসপাতাল )ড. মোহন পটেলের মতে, কিডনি রোগকে সাধারণত "নীরব ঘাতক" বলা হয়। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণ দেখা যায় না। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ কিডনি খারাপ হওয়ার প্রধান কারণ। শুরুতে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনও ব্যথা হয় না এবং কোনও অস্বস্তিও হয় না। তাই পরীক্ষা ছাড়া রোগ ধরা পড়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ইউরিন টেস্ট করানো জরুরি

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রক্ত ​​এবং ইউরিন টেস্ট করানো খুবই জরুরি, এমনকি তারা সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করলেও। কারও যদি, কিডনি সম্পর্কিত কোনও সমস্যা থাকে, ব্যথা শুরু হতে পারে, তবে তা অনেক পরের দিকে। কিডনিতে পাথর, সংক্রমণ বা টিউমার হলে ব্যথায় জানান দিতে পারে।  এই ব্যথা সবসময় কিডনির আশেপাশেই বেশি করে হবে এমনটা নয় কিন্তু। 

শরীরের এই সব জায়গাতেও ব্যথা হতে পারে

অনেক সময় কিডনির ব্যথা শরীরের অন্য অংশে অনুভূত হয়, যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় "রেফার্ড পেইন" বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন কিডনিতে পাথর বা টিউমারের হয়, তখন ইউরেটারে (কিডনি থেকে মূত্রাশয় পর্যন্ত যাওয়া নালী) বাধা আসে।  তখন তীব্র ব্যথা পিঠ থেকে শুরু করে পেটের নিচের অংশ, উরু বা গোপন অঙ্গ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। একে ইউরেট্রিক কলিক বলা হয়।

এই লক্ষণগুলিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়

কিডনি সংক্রান্ত ব্যথা প্রায়শই পিঠের নিচের অংশে অনুভূত হয়। সাধারণত মানুষ এই ধরনের ব্যথা পেশীর ব্যথা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি এই ব্যথা গভীর হয়, দীর্ঘ সময় ধরে থাকে এবং এর সঙ্গে জ্বর বা প্রস্রাবে সমস্যা হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা কিডনির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে, কিডনি বিকল হওয়ার প্রভাব পড়তে পারে  হৃদযন্ত্রের উপরও।  ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে ব্যথা, জ্বালা বা ফোলাভাবও কিডনির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের দাবি, কিডনির অসুখের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত ব্যথা হয় না, তবে যখন ব্যথা দেখা যায়, তখন এটিকে হালকাভাবে নেবেন না। যাদের কিডনির রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ব্যথার জন্য অপেক্ষা না করে সময়ে সময়ে পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো রোগ ধরা পড়লেই কিডনিকে গুরুতর ক্ষতি থেকে বাঁচানো যেতে পারে।