Kidney Problem Symptoms: কিডনির সমস্যা একবার শুরু হলে, পুরোপুরি সুস্থ হওয়া মুশকিল। কিডনিতে পাথর জমলে, সঠিক ভাবে কিডনি কাজ না করলে, আমাদের শরীর থেকে দূষিত পদার্থ নির্গত হতে পারে না। তার ফলে শরীর ভিতর থেকে পরিশ্রুত হয় না। কিডনি বিকল হতে শুরু করলে শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একসঙ্গে খারাপ হয়ে যেতে পারে। অতএব কিডনির স্বাস্থ্যের ব্যাপারে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি। আপনার কিডনির সমস্যা রয়েছে কিনা, তা কীভাবে বুঝবেন? শরীরের কোন কোন উপসর্গ বা লক্ষণ দেখলে বোঝা যায় যে আপনার কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না, জেনে নিন।
ক্লান্ত, অবসন্ন, ঝিমানো ভাব
শরীরের বেশ কিছু পরিবর্তন জানিয়ে দেয় কিডনির সমস্যা শুরু হয়েছে আপনার শরীরে। এগুলি খুব সাধারণ কিছু লক্ষণ। তবে অবহেলায় অনেক সময়েই আমরা এইসব উপসর্গ এড়িয়ে যাই। কিডনির কার্যক্ষমতা সঠিক ভাবে বজায় না থাকলে, শরীর সবসময় ক্লান্ত থাকে। একটা অবসন্ন, ঝিমানো ভাব সারাক্ষণ ঘিরে থাকবে আপনার শরীরকে। অল্প পরিশ্রমেই মারাত্মক ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে যাবেন আপনি।
ফুলে যেতে পারে হাত-পা-মুখ
কিডনি ঠিক ভাবে কাজ না করলে শরীরের ভিতর টক্সিন বা দূষিত পদার্থ জমে যায়। এর ফলে শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জমতে পারে ফ্লুইড। সেইসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুলে যেতে পারে। ব্যথাও হতে পারে। কিডনি আসলে মানবশরীরের ফিল্টার। শরীরে জমা যাবতীয় দূষিত পদার্থ দূর করে শরীর পরিশ্রুত রাখতে সাহায্য করে কিডনি। তাই এই অঙ্গ বিকল হতে থাকলে ফ্লুইডের জমার কারণে পায়ের পাতা, গোড়ালি, হাত-সহ মুখের বিভিন্ন অংশ ফুলে যেতে পারে।
- কিডনির সমস্যা দেখা দিলে শ্বাসযন্ত্রেও জমতে পারে ফ্লুইড। তার ফলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। শ্বাসকষ্ট হতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক ভাবে নিতে অসুবিধা হবে। কিডনির সমস্যা দেখা দিলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
- কিডনির সমস্যা থাকলে কোমরের নীচের দিকে, তীব্র যন্ত্রণা হতে পারে। তাই কোমরে ব্যথা হলে অবহেলা করবেন না। সবসময় কিডনির ব্যথা সাধারণ কারণে নাও হতে পারে। একটানা অনেকদিন কোমরের যন্ত্রণা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- কিডনির সমস্যা শুরু হলে খাবার হজমের সমস্যা হয়, এমনকী ঘন ঘন বমিও পায়। গা-গোলাতে থাকে। খাবার ঠিকভাবে হজম না হলে বদহজম, অ্যাসিডিটি, গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু খেলেই মনে হবে পেট খুব বেশি ভর্তি হয়ে রয়েছে। চোঁয়া ঢেকুরও উঠতে পারে।
- আমাদের শরীরে টক্সিনের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে, ত্বক মারাত্মক ভাবে রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ভীষণভাবে চুলকানি দেখা দিতে পারে ত্বকে। মনে হবে যেন ত্বকের ভিতরে চুলকানি হচ্ছে। ত্বকের উপর থেকে চুলকে আপনার স্বস্তি হবে না।