স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি মহিলাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। দিনে দিনে থাবা চওড়া হচ্ছে স্তন ক্যান্সারের। চমকে দিচ্ছে পরিসংখ্যান। তবে স্তন ক্যান্সার নয়, এই মুহূর্তে ভারতীয় মহিলাদের কাছে আরেকটি বড় আতঙ্ক - ফুসফুসের ক্যান্সার। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, হালে ভারতে পুরুষদের থেকে মহিলাদেরই ফুসফুসের ক্যান্সারে মৃত্যু হচ্ছে বেশি। আইসিএমআর-এর দেওয়া তথ্যে চমক লাগবে।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে নারীদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যে কোনো ধরনের ম্যালিগন্যান্সির ফলে কম বয়সে মারা যাওয়ার ঝুঁকি মহিলাদেরই বেশি এ দেশে। উদ্বেগের বিষয় হল, মহিলাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু না, তা বলে ভাবার কোনও কারণ নেই এই জেনারেশনের মেয়েরা ধূমপান বেশি করে বলে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে এই ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্তদের বেশিরভাগই ধূমপায়ী নন। বরং ফুসফুসের ক্ষতি করে দিচ্ছে ঘরে-বাইরের বিষবাস্প। বায়ু দূষণের ক্রমবর্ধমান সংস্পর্শ ফুসফুসের অন্যতম প্রধান কারণ।
WHO-IARC, GLOBOCAN 2022 এর একটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, ভারতে মোট ১৪,১৩,৩১৬টি ক্যান্সার-আক্রান্তর মধ্যে ৭,১২,১৩৮ জন মহিলা এবং ৬,৯১,১৭৮ জন পুরুষ। ২০২২ সালে শুধুমাত্র ফুসফুসের ক্যান্সারই কেস ছিল ৮১,৭৪৮টি । তার মধ্যে ৭৫,০৩১ জন মারা গিয়েছিলেন।
চিকিৎসা শাস্ত্রের যথেষ্ট উন্নতি সত্ত্বেও ফুসফুসের ক্যান্সার এখনও যথেষ্ট ঝুঁকির। এর ফলে মৃত্যুর হারও মারাত্মক। ভারতের মহিলারা সবথেকে বেশি আক্রান্ত হন, স্তন, ঠোঁট এবং মুখগহ্বর, জরায়ু, ডিম্বাশয় এবং কোলোরেক্টাম ক্যা্সারে। ফুসফুসের ক্যান্সার একসময় প্রধানত ধূমপায়ী এবং পুরুষদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত । তবে এখন মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারগুলির মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে ফুসফুসের ক্যান্সার। গবেষকরা সতর্ক করছেন, ফুসফুসের ক্যান্সারের ছড়ানোর প্রবণতা মারাত্মক। তাই চিকিৎসায় সেরে ওঠার হার অনেক ক্ষেত্রে ভাল নয়। হালে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা। বলছে ICMR-NCDIR -এর একটি রিপোর্টও। ২০১২-২০১৯ সালের মধ্যে ভারত জুড়ে ৯২টি হাসপাতালের তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই গবেষণাটি করা হয়। তাতেও এমন প্রবণতাই স্পষ্ট।
ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে কেন বাড়ছে ফুসফুসের ক্যান্সার । কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন ডাক্তাররা।
- ভারতের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হল বায়ু দূষণ !
- নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তনের প্রবণতা বেশি
- জৈব জ্বালানি এবং রান্নার ধোঁয়ার সংস্পর্শেও নারীরাই বেশি আসেন।
- তাছাড়া মহিলারা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন, তাই ডাক্তার দেখাতে দেখাতে প্রাথমিক পর্যায় পেরিয়ে যায়।