Men Health Problem: মহিলাদের মতোই পুরুষদের শরীরেও বয়সের ভারে নানা রকমের সমস্যা দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম 'অ্যান্ড্রোপজ'। মহিলাদের ক্ষেত্রে 'মেনোপজ'- এর কথা আমরা সকলেই শুনেছি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই শব্দের সঙ্গে অল্প-বিস্তর সকলেই পরিচিত। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তন এবং তার প্রভাব শুধু যে মহিলারাই উপলব্ধি করতে পারেন তা কিন্তু নয়। পুরুষদের শরীরেও এই একই বিষয় লক্ষ্য করা যায়, যা খুব একটা স্বাভাবিক অনুভূতি নয়। 

অ্যান্ড্রোপজ আসলে কী? পুরুষদের ক্ষেত্রে কখন এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়? মহিলাদের মেনোপজের সময়ের মতো অ্যান্ড্রোপজের সময় পুরুষদেরও কি মুড সুইংস হয়? সমস্যা দেখা দিলে কী করণীয়? এই সমস্ত বিষয় নিয়ে সংবাদসংস্থা আইএনএএস নিউ দিল্লির সি কে বিড়লা হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডক্টর সমীর খান্নার সঙ্গে কথা বলেছে। 

সিনিয়র ইউরোলজিস্ট ডক্টর খান্নার মতে 'অ্যান্ড্রোপজ' যাকে সাধারণ মানুষ প্রায়ই পুরুষদের মেনোপজ বলে থাকে, আদতে বিষয়টি তা নয়। তবে মহিলাদের মেনোপজ এবং পুরুষদের অ্যান্ড্রোপজ আলাদা হলেও, এই দুইয়ের মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। অ্যান্ড্রোপজ বলতে পুরুষদের বয়সের সাথে সাথে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাওয়াকে বোঝায়, যা সাধারণত ৫০ বছর বয়সের কাছাকাছি শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে। ডক্টর খান্না আরও জানিয়েছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোপজ তাঁদের প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে না। মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজ স্পষ্ট ভাবে মহিলাদের উর্বরতা বা প্রজনন ক্ষমতা সমাপ্তি চিহ্নিত করে। কিন্তু এই ঘটনার বিপরীত কখনই অ্যান্ড্রোপজ নয়। 

অ্যান্ড্রোপজের সময় পুরুষদের ক্ষেত্রে ক্লান্তি, কামশক্তি কমে যাওয়া, মুড সুইংস, পেশীর ভর হ্রাস পাওয়া, ফ্যাট বৃদ্ধি - এইসব উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায়। সাধারণত এই সমস্ত পরিবর্তন টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্তর ক্রমশ কমে যাওয়ার সঙ্গে সংযুক্ত। তবে স্ট্রেস, দীর্ঘকালীন কোনও অসুখ কিংবা দৈনন্দিন জীবনশৈলীর বিভিন্ন অভ্যাসের কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে। 

অ্যান্ড্রোপজ হলে কি ভয়ের কোনও কারণ রয়েছে? 

এই প্রশ্নের জবাব ডক্টর সমীর খান্না জানিয়েছেন, পুরুষদের অ্যান্ড্রোপজ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত তবে এর সম্পর্কে চিন্তা করার দরকার নেই। অ্যান্ড্রোপজ বার্ধক্যের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। বেশিরভাগ লোকই কেবল হাল্কা লক্ষণগুলি অনুভব করেন। তবে যাঁদের সমস্যা গুরুতর তাঁদের একজন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের স্তর বোঝা সম্ভব। যদি দেখা যায় এই হরমোন অস্বাভাবিক হারে কমে যাচ্ছে তাহলে টেস্টোস্টেরল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (টিআরটি) একটি বিকল্প হতে পারে। তবে অবশ্যই এর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই থেরাপির কিছু ঝুঁকি রয়েছে। হার্ট অ্যাটাক হতে পারে এই থেরাপি চললে। সমস্যা বাড়তে পারে প্রস্টেটেরও। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া, অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধান ছাড়া এই থেরাপি করা একেবারেই উচিৎ নয়। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে, সুষম আহার করলে, পর্যাপ্ত ঘুম হলে, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এবং ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস এড়িয়ে চললে অ্যান্ড্রোপজের প্রভাব প্রতিরোধ করা যেতে পারে। 

তথ্যসূত্র আইএনএএস