সম্প্রতি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বারাসাতের নারায়ণা হাসপাতালে ভর্তি হন ওই হাসপাতালের ২ নার্স। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, নিপা আক্রান্ত কাটোয়ার তরুণী নার্স এখনও কোমায় রয়েছেন, তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি। কেরলে প্রায় বছর-বছরই নিপা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাহলে কি ভারতে নিপা আক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে ? সারা বিশ্বকে কী বার্তা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ? 

Continues below advertisement

 WHO কী বলছে?

সারা বিশ্বের কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভারত থেকে মারণ নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমই। তাই এই মুহূর্তে অন্য কোনও দেশ থেকে ভারতে ভ্রমণ বা বাণিজ্য বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের দুটি ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। WHO জানিয়েছে,  ভারতের স্বাস্ মন্ত্রকের  সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। এখন যা পরিস্থিতি , তাতে মানুষ থেকে মানুষে নিপা-সংক্রমণ বৃদ্ধির কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তাই এখন যা পরিস্থিতি , তাতে WHO  ভারতে কাউকে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে বিধিনিষেধ জারি করছে না।   

Continues below advertisement

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়  মহামারী সংক্রান্ত বুলেটিনে, WHO জানিয়েছে , ভারতে নিপা সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আর যাদের নিপা সংক্রমিত সন্দেহে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের পরীক্ষায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নেগেটিভ এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বা আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO।  

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'নিপা'য় আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ থাকা রোগীর সঙ্গে আবদ্ধ জায়গায় ১২ ঘণ্টা সময় কাটানো মানেই 'হাইরিস্ক'! আক্রান্ত রোগীর রক্ত, দেহরস, লালা, মূত্র বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে ২১ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আক্রান্ত অথবা উপসর্গযুক্ত রোগী বা তাঁর জামা-কাপড়ের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে দিনে ২ বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। উপসর্গ ধরা পড়লেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। রাখতে হবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। যাঁদের উপসর্গ দেখা যাবে, তাঁদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতেই হবে। যেহেতু নিপা সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোনও ওষুধ এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, সেক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে বিকল্প দুটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তির RTPCR টেস্টের জন্য নমুনা দ্রুত পাঠাতে হবে। একদিনের মধ্যে অন্তত দু'বার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তবেই ওষুধ বন্ধ হবে।