একটা সময় পর্যন্ত মনে করা হত, মদ্যপান করলেই নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু তা একেবারেই নয়। শরীরে ফ্যাট ইনটেকের পরিমাণ বাড়লে লিভার নিজের মধ্যেই ফ্যাট সঞ্চয় করতে শুরু করে। এবার লিভারে যদি অতিরিক্তি ফ্যাট আসে, তখন তার কিছুটা জমা হয় লিভারে, কিছুটা শরীরের অন্যান্য অঙ্গে জমা হয়। এই কারণেই ওজন বেড়ে যায় মানুষের। লিভারের অধিকাংশ কোষেই যদি ফ্যাট জমে যায়, তাহলে স্টোর তাকে ফ্যাটি লিভার সিনড্রোম বলা হয়ে থাকে। মদ না খেয়েও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হলে, তাকে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিসিজ ( NAFLD ) বলা হয়। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা স্টেজ ওয়ান ও টু তে থাকলে তা এক্সারসাইজ ও ডায়েটের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়। কিন্তু কেন হয় এই অসুখ , এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন এইমসের চিকিৎসকরা।
দিল্লির এইমসের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের একটি প্যানেল এই বিষয়ে বিষদে আলোচনা করেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ NAFLD-তে আক্রান্ত। এই রোগটি মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আফ্রিকায় এই অসুখের প্রকোপ এখনও কম। ২০১৭ সালের গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ রিপোর্ট অনুসারে, প্রতি বছর প্রায় ৩.৬৭ লক্ষ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হন নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস , স্থূলতা, মেটাবলিক সিনড্রোমের কারণেই বেশি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে এই অসুখ তো বাড়ছেই, পাওয়া যায়। লিভার এনজাইমের লক্ষণহীন বৃদ্ধির এক তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে NAFLD এর কারণে হতে পারে। লিভার শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে ফ্যাটি লিভারে। তার কারণগুলিও খুঁজে বের করেছেন চিকিৎসকরা।
এইমসের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ প্রমোদ গর্গ বলেন, গত ১০-১৫ বছরে ফ্যাটি লিভারের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। লিভার ক্যান্সারের ঘটনাও বেড়েছে, যার প্রধান কারণ জীবনযাত্রার মান খারাপ হয়ে যাওয়া।
এইমসের চিকিৎসক ডাঃ প্রমোদ গর্গ, ডাঃ গোবিন্দ মাখারিয়া, ডাঃ শালিমার, ডাঃ দীপক গুঞ্জন, ডাঃ সমগ্র আগরওয়াল এবং ডাঃ সাগ্নিক বিশ্বাস মনে করেন, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রুখতে জীবনযাত্রার পরিবর্তনটাই এখন সবথেকে জরুরি। সেই সঙ্গে খাবারে তেলের পরিমাণ ১০ শতাংশ কমানো দরকার। গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ স্থূলকায় হয়ে পড়তে পারে, যা এক ধাক্কায় স্বাস্থ্য সমস্যা অনেকটা বাড়িয়ে দেবে। তেল কম খেলে ফলে কেবল লিভার নয়, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকিও কমবে।
ডাঃ সাগ্নিক বিশ্বাস বলেন, ফ্যাটি লিভার শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে নিরাময় করা যায় না। এটি এমন একটি রোগ যার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো সুস্থ জীবনযাপন। ফ্যাটি লিভার প্রথম দিকে ধরা গেলে ভাল, কিন্তু চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছলে তা সিরোসিস অফ লিভারও ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসক সাগ্নিক আরও বলেন, ভারতীয়দের খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং আয়রনের ভারসাম্য থাকা উচিত। সেই সঙ্গে এড়িয়ে চলতে হবে জাঙ্ক ফুড ও প্যাকেজড ফুড। এড়িয়ে চলতে হবে ট্রান্স ফ্যাট। তবেই অনেক স্বাস্থ্যসমস্যা এড়ানো যাবে।