বাঙালির ব্রত-পার্বণের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে প্রকৃতি। তা সে চোদ্দ শাক খাওয়াই হোক কিংবা অরন্ধনের পান্তা খাওয়া। আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রকৃতি, সবকিছুর কথা মাথায় রেখেই যেন তৈরি হয়েছে বাংলার বিভিন্ন ব্রত। সরস্বতী পুজো ( Saraswati Puja )-র ঠিক পরের দিন শীতল ষষ্ঠী ( Sital Sashthi ) পালন। তার সঙ্গেও জুড়ে আছে নানা রীতি। যেমন গোটাসিদ্ধ খাওয়ার রীতি। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গীয়দের পরিবারে এই রীতি যথেষ্ট প্রচলিত।
বাগদেবীর আরাধনার পাশাপাশি শীতল ষষ্ঠীর আয়োজনও চলে বাংলার ঘরে ঘরে। শীতল ষষ্ঠীর প্রধান রীতিই হল ঠান্ডা খাওয়া। তাই সরস্বতী পুজোর পরদিন খাওয়া হয় আগের দিন রান্না করে রাখা গোটা-সিদ্ধ ও পান্তা ভাত। এই গোটাসিদ্ধ কেন খাওয়া হয়, তা নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও, পুষ্টিবিদরা কিন্তু মনে করেন, এই গোটাসিদ্ধর প্রচুর গুণাগুণ। তাই
কে ঘিরেও বাংলার জেলায় জেলায় আড়ম্বর। আর সেই সঙ্গে জুড়ে আছে আরও একটি ঐতিহ্য। গোটা সিদ্ধ। মূলত পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালি পরিবারগুলিতে পালন করা হয় এই রীতি। সেদিন কিছু গরম খাওয়া মানা। শীতল ষষ্ঠীর ভোগের মধ্যে অবশ্যই থাকে গোটা সিদ্ধ আর কুলের অম্বল। শীতল ষষ্ঠীতে শিলনোড়ার পুজো করা হয়ে থাকে অনেক জায়গায়।
এই গোটা সিদ্ধ কী। কী কী উপকরণ থাকে ?
শীতকাল হল সুস্বাদু সবজি খাওয়ার সময়। আর সরস্বতী পুজো মানেই তো শীতের শেষ , বসন্তের শুরু। ঋতু পরিবর্তনের সময় নানা অসুখ হয়। বসন্ত রোগবালাইয়ের ঋতুও বটে। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গোটাসিদ্ধ খুব উপকারী। রান্না করতে লাগে - আলু, রাঙা আলু, বেগুন শিষ পালং শাক, শিম, মটরশুঁটি, সবুজ মুগ কড়াই ইত্যাদি। তেল-ঝাল-মশলা নয়, হালকাভাবে রান্না করতে হবে আদা বাটা, হলুদ গুঁড়ো , লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে, পাঁচ ফোঁড়ন, শুকনো লঙ্কা, নুন, চিনি দিয়ে।
- শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
- গোটা সিদ্ধতে ব্যবহৃত আনাজগুলিতে রয়েছে ফসফরিক ম্যাগনেসিয়াম এবং উচ্চ পরিমাণে পটাসিয়াম ।
- গোটা সিদ্ধয় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন মেলে অনেক । যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
- এই ঋতু পরিবর্তন কালে অনেকরকম সংক্রমণ হয়। এই রেসিপি তৈরিতে ব্যবহৃত মশলাগুলি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
- ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
