তিরুঅনন্তপুরম: কেরলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াবাহিত রোগ শিগেলা (Shigella)। গত ছয় মাসে দক্ষিণের রাজ্যে ১৪৬ জন এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫ জনের। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় হাই অ্যালার্ট জারি করেছে রাজ্য সরকার।মঙ্গলবার কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে. মুরলীধরন জানান, জুন মাসেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। শুধুমাত্র জুনেই ৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে কোঝিকোড় জেলায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪। এছাড়া মালাপ্পুরম ও তিরুবনন্তপুরমে ২৫ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন।
কী এই শিগেলা?
শিগেলা হল এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা শিগেলোসিস (Shigellosis) নামে পরিচিত অন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়। সাধারণত সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশু, প্রবীণ এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
কী কী উপসর্গ দেখা যায়?
সংক্রমণের ১ থেকে ২ দিনের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রধান উপসর্গগুলি হল—
- তীব্র ডায়রিয়া
- মলত্যাগের সঙ্গে রক্ত বা মিউকাস বের হওয়া
- পেটে তীব্র ব্যথা ও ক্র্যাম্প
- বারবার মলত্যাগের চাপ
- উচ্চ জ্বর
- বমি বমি ভাব ও বমি
- শরীরে জলের ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন)
কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্প পরিমাণ শিগেলা ব্যাকটেরিয়াই একজন মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই এই রোগ অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়।সংক্রমণের প্রধান কারণ—
- দূষিত জল পান করা
- সংক্রমিত ব্যক্তির হাতের স্পর্শে তৈরি খাবার খাওয়া
- টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত না ধোয়া
- দূষিত দরজার হাতল, বাসনপত্র বা অন্যান্য পৃষ্ঠ স্পর্শ করে মুখে হাত দেওয়া
কীভাবে বাঁচবেন?
স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ—
- নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে
- ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ জল পান করতে হবে
- খাবার তৈরির আগে ও পরে হাত পরিষ্কার রাখতে হবে
- শিশুদের পরিচর্যার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে
চিকিৎসা কী?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জল, ওআরএস এবং বিশ্রামেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নিজের ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী শিগেলা স্ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে। রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া বা উচ্চ জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
