বিজাপুর: মাওবাদী দমনে রুদ্ধশ্বাস অভিযান ছত্তীসগঢ়ে। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৩১ জন সন্দেহভাজন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন দুই জওয়ানও। আহত হয়েছেন আরও দু’জন। নিহত এক জওয়ান ছত্তীসগঢ় ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডে কর্মরত ছিলেন। অন্য জন স্পেশাল টাস্কফোর্সের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছেন বাস্তার রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল সুন্দররাজ পি। (Chhattisgarh Maoist Encounter)
রবিবার ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর জেলার ইন্দ্রবতী ন্যাশনাল পার্কের জঙ্গলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সন্দেহভাজন মাওবাদীদের সংঘর্ষ বাধে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর। এদিন সকালেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনীর একাধিক বিভাগ। ৩১ জন সন্দেহভাজন মাওবাদীর মৃত্যুর পরও এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে বলে খবর।(Maoist Encounter in Bijapur)
পিটিআই জানিয়েছে, ইন্দ্রবতী ন্যাশনাল পার্কের জঙ্গলে মাওবাদীরা ঘাপটি মেরে রয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর এসে পৌঁছয়। সেই মতো যৌথ বাহিনী অভিযানে নামে। নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে উল্টো দিক থেকে গুলি ছুটি আসতে শুরু করে বলে জানা গিয়েছে। পাল্টা গুলিবর্ষণ করেন নিরাপত্তাকর্মীরাও। তাতেই ৩১ জন সন্দেহভাজন মাওবাদী এবং দুই জওয়ান প্রাণ হারান বলে জানা যাচ্ছে। আহত জওয়ানদের হেলিকপ্টারে চাপিয়ে রায়পুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চিকিৎসার জন্য।
বাস্তার রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল সুন্দররাজ জানিয়েছেন, ৩১ জনেরই দেহ উদ্ধার হয়েছে। সকলকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত সন্দেহভাজন মাওবাদীদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ AK-47, SLR, INSAN রাইফেল, .303, BGL গ্রেনেড লঞ্চার এবং বিস্ফোরকও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। তল্লাশি অভিযান চালাতে বাড়তি বাহিনী নামানো হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ইন্দ্রবতী ন্যাশনাল পার্কের জঙ্গলে এই নিয়ে দ্বিতীয় মাওবাদী বিরোধী অভিযান চলল। এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি সেখানে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ১২ সন্দেহভাজন মাওবাদীর মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে চলতি বছরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত সন্দেহভাজন মাওবাদীর সংখ্যা বেড়ে ৭৫ হয়ে গেল।
এর মধ্যে গত ২১ জানুয়ারি ১৬ জন সন্দেহভাজন মাওবাদীর মৃত্যু হয় উদান্তি-সীতানন্দী টাইগার রিজার্ভের কুলহাড়িঘাটে। ১৬ জানুয়ারি বিজাপুরেই ১২ জনের মৃত্যু হয়। অভিযান চলাকালীন ন’জন নিরাপত্তাকর্মী এবং এক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবরও সামনে আসে।
২০২৪ সালে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২১৭ সন্দেহভাজন মাওবাদীর মৃত্যু হয়। গত বছর অগাস্ট মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিত শাহ ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদকে উপড়ে ফেলা হবে। কিন্তু ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী অভিযান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহতদের মধ্যে কয়েক জন এমন রয়েছেন, যাঁদের মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষও রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের পরিবার-পরিজনরা সেই নিয়ে সরব হয়েছেন।