নয়াদিল্লি: ব্যস্ত জীবনে আদা-রসুন বাটার ঝামেলা পোষায় না। তাই বাজার থেকে প্যাকেটে বন্দি আদা-রসুনের পেস্ট কিনে আনেন অনেক গৃহস্থই। কিন্তু সেই আদা-রসুনের পেস্টেও ভেজাল ধরা পড়ল। তেলঙ্গানার একটি কারখানায় হানা দিয়ে হাতেনাতে ধরল কর্তৃপক্ষ। ওই কারখানা থেকে বিভিন্ন হোটেল রেস্তরাঁ এবং ব্যবসায়ীদের কাছে প্যাকেটে বন্দি ওই আদা-রসুনের পেস্ট পৌঁছে যেত বলে জানা যাচ্ছে। (Adulterated Ginger-Garlic Paste)
তেলঙ্গানার কটেদানে এই ভেজাল আদা-রসুন চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪ টনের বেশি ভেজাল আদা-রসুন বাটা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৬ হাজার ২০০ কেজি নিম্নমানের কাঁচামালও বাজেয়াপ্ত করেছেন আধিকারিকরা। সব মিলিয়ে ২২ লক্ষ টাকার পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। (Adulterated Food Items)
খৈরতাবাদের টাস্ক ফোর্স এবং H-Fast টিম মিলে বেজাল আদা-রসুন ব্যবসার পর্দাফাঁস করেছে। গ্রেফতারপ করা হয়েছে কারখানার মালিক হাসান আলি রুপানিকে। তল্লাশি চলাকালীন আধিকারিকরা দেখেন, অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ চলছে। আদা-রসুন বাটায় রসুনের খোসাও মেশানো হচ্ছে। এমনকি অ্যাসেটিক অ্যাসিড, Xanthan Gum-এর মতো রাসায়নিক উপাদানও মেশানো হচ্ছে আদা-রসুন বাটার মধ্য়ে।
খোলা পাত্রেই মিশ্রণ জমা করা হচ্ছিল ওই কারখানায়। ধুলোবালি তো ছিলই, মাছি উড়ছিল চারিদিকে। মুদিখানার দোকান থেকে হোটেল-রেস্তরাঁ, ক্যাটেরিং সংস্থার কাছেও ওই আদা-রসুন বাটা সরবরাহ করা হতো। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, তা দেখে আঁতকে উঠছেন অনেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি অল্প মাত্রা.য় অ্যাসেটিক অ্যাসিড শরীরে গেলেও মারাত্মক ক্ষতি পারে। বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে, গলা জ্বালা, দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পটাসিয়ামের মাত্রা হ্রাস পায় রক্তে। বমি হতে পারে, তলপেটে যন্ত্রণা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিডনির সমস্যা হতে পারে এক্ষেত্রে।
খাবারে Xanthan Gum ব্যবহারে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, ব্লোটিং, ডায়রিয়া হতে পারে। মিশ্রণ ঘন করতে এটি ঢালা হয়।
