কলকাতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেমন ছুটছে গোটা বিশ্ব, তেমনই সেই দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে চায় না আমাদের ভারতও। আর সেই কারণেই দেশে একের পর এক তৈরি হয়েছে কমার্শিয়াল ডেটা সেন্টার। তথ্য বলছে ভারতে বর্তমানে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা ছড়িয়ে গিয়েছে ১৫৩। যদিও এই ডেটা সেন্টারগুলো সম্পূর্ণ AI ডেটা সেন্টার নয়। কিন্তু সম্পূর্ণ AI ডেটা সেন্টার তৈরি করতে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে আমাদের দেশ, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরাই।
আরও পড়ুন: হরমুজে সঙ্কট, গরমে চাহিদা বাড়বে প্রাকৃতিক গ্যাসের, ভারতে বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই ডেটা সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিকাঠামো এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হল বিদ্যুৎ ও জল। আসলে প্রচলিত ক্লাউড পরিষেবার তুলনায় এআই ডেটা সেন্টারগুলিতে প্রচুর পরিমাণে জল ও বিদ্যুতের চাহিদা দেখা যায়। কারণ, এই ধরনের ডেটা সেন্টারে বিপুল সংখ্যক গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা GPU ব্যবহার করা হয়। সাধারণ ক্লাউড পরিষেবা দেওয়া ডেটা সেন্টারগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।
১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কোনও ডেটা সেন্টার যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পারে প্রায় ১ লক্ষ পরিবারের। অর্থাৎ, বর্তমান পরিকাঠামোয় এমন কোনও ডেটা সেন্টার তৈরি হলে বিদ্যুতের গ্রিডের উপর প্রবল চাপ পড়ে যায়। এ ছাড়াও এই ধরনের ডেটা সেটার থেকে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে, সেটা ধারণারও বাইরে।
আরও পড়ুন: জ্বালানির নতুন যুগের সূচনা, দেশজুড়ে ৪৮ পাম্পে মিলবে নতুন E85 পেট্রোল
আর এখানেই চলে আসে জল সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টা। অধিকাংশ ডেটা সেন্টার এখনও কুলিংয়ের জন্য জলের উপর নির্ভর করে। অথচ বিশ্বের মোট জলসম্পদের মাত্র ৪ শতাংশ রয়েছে ভারতে। কিন্তু জনসংখ্যা ১৮ শতাংশের কাছাকাছি। আর সেই কারণেই ভারতে চাপ বাড়তে পারে জলসম্পদের উপর।
অন্যদিকে, উন্নত কুলিং প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বিশেষ হার্ডওয়্যারের কারণে আমদানির উপর নির্ভরতা বাড়িতয়ে দিয়ে পারে নির্মাণ ব্যয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এআই খাতে ভারতের সম্ভাবনা বিপুল। যদিও দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা সফল করতে হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ, জল ব্যবস্থাপনা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে। তবেই এআই ডেটা সেন্টারের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে ভারত।
