নয়াদিল্লি: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলছে আঘাত, প্রত্যাঘাত। পাকিস্তান যে শুধু জম্মুতেই আঘাত হেনেছে তা নয়, রাজস্থানের জয়সলমেরের আকাশেও দেখা গিয়েছে অনেক পাকিস্তানি ড্রোন। আঘাত হানার আগেই অবশ্য সেই সমস্ত ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে ভারতের এয়ার ডিফেন্স। ভারতীয় সেনার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের গুরুতর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আজ রাত ঘনানোর আগেই আরও সতর্ক ভারত। গতকালই সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ মানুষদের সরানো হয়েছে।
আর এবার, ভারত পাকিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সমস্ত চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মীদের ছুটি বাতিল করল রাজস্থান সরকার। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি বিবেচনা করে, তৈরি করা হয়েছে একাধিক অস্থায়ী ওয়ার্ড। আইসিইউ-তেও শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ভরতপুর প্রশাসনও প্রস্তুতি শুরু করেছে। যুদ্ধকালীপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জেলা আরবিএম হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং অস্থায়ী ওয়ার্ডেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকল মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করে তোলা হচ্ছে।
হাসপাতাল অধ্যক্ষ কী বলছেন?
জেলা আরবিএম হাসপাতালের অধ্যক্ষ নগেন্দ্র ভাদৌরিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতাল প্রশাসন সকল চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মীদের ছুটি বাতিল করে দিয়েছে এবং সকল চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মীদের সদর দপ্তরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য আরবিএম হাসপাতালে যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৮টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। সকল শয্যাই ভেন্টিলেটরযুক্ত। এছাড়াও অস্থায়ী ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইয়েলো জোনের জন্য ২০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য বিভাগেও শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ
বর্তমানে রাজস্থানের জেলা হাসপাতালে নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই কারণে অ্যাম্বুল্যান্স যাতায়াতের কোনও পথ ছিল না। তড়িঘড়ি সেই নির্মাণকাজ সরিয়ে হাসপাতালের একেবারে সামনে অবধি অ্যাম্বুল্যান্স যাতায়াতের পথ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সহজেই রোগীদের নিয়ে যাওয়া যাবে হাসপাতালে। নার্সিং কলেজের ৪০০ ছাত্রছাত্রী, ৭৫০ এমবিবিএস ছাত্রছাত্রী, ১৫০ ছাত্রছাত্রী ইন্টার্নশিপ করছে, এই সকল ছাত্রছাত্রী যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করবে। দুর্যোগের সময়ের জন্য তারা সকলে প্রস্তুত। তাদের সকল ব্যবস্থা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বন্ধ সমস্ত স্কুল-কলেজ
আপাতত রাজস্থানে বন্ধ রাখা হয়েছে শ্রীগঙ্গানগর, বিকানের, যোধপুর, জয়সলমের বা বারমেরের সমস্ত সরকারী ও বেসরকারী স্কুল কলেজ। আজমেরের বিকানের ও কৃষ্ণনগড় বিমানবন্দর ও যোধপুর বিমানবন্দরে আগামী ১০ মে পর্যন্ত সমস্ত বিমান ওঠানামা বন্ধ।