ঢাকা : 'ইনকিলাব মঞ্চের' আহ্বায়ক ওসমান বিন হাদি-খুনের পর থেকেই প্রতিবাদ ও নৈরাজ্যের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ। আবারও অশান্ত বাংলা দেশে হয়ে গেল রাজনৈতিক নেতার খুন! এবার গুলিতে ঝাঁঝরা হলেন  বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান। বুধবার ভর সন্ধেয় ঢাকায় তেজগাঁওয়ে ভরা বাজারে চলল গুলি। ঝাঁঝরা হলেন ওই বিএনপি নেতার এক সঙ্গীও। তিনি সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি। 

Continues below advertisement

বাংলাদেশে ভোট আগামী ফেব্রুয়ারিতে। একেবারে এক মাসই বাকি ! তার আগেই আবারও এক রাজনৈতিক নেতার খুনে কি বাড়বে অস্থিরতা ? হাদি হত্যার পর থেকেই বাংলাদেশ নৈরাজ্যের দেশ। সেখানে কার্যত একের পর এক হিন্দুকে নৃশংস ভাবে মারা হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, সংখ্যালঘু হিন্দু মহিলাদের উপর অকথ্য নির্যাতনের। চরমে উঠছে ভারত বিরোধিতা। সেই আবহেই, খুন হয়ে গেলেন আরও এক রাজনৈতিক নেতা। আজিজুর বিএনপির শাখা সংগঠনের পদাধিকারী। ঠিক কী কারণে খুন হলেন , এই তরুণ নেতা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। 

বুধবার ৮.৩০ নাগাদ কুরবান বাজার এলাকায় সুপার স্টার হোটেলের কাছে, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের কাছে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। এই এলাকাটি ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলির মধ্যে একটি। আজিজুরের পেটে গুলি লাগার পর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ভর্তি করা হয় সঙ্গী সুফিয়ানকে।  পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা আজিজুরের উপর খুব কাছ থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। তারপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।  

Continues below advertisement

গুলি চালানোর ঘটনার পর কুরবান বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা সার্ক ফাউন্টেন মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। রাত প্রায় ১০.৩০-এর দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে রাস্তা খোলেন। হামলাকারীদের শনাক্ত করার জন্য তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। ভারত-সহ গণতান্ত্রিক দেশগুলি চাইছে, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিক বাংলাদেশের। শান্তিশৃঙ্খলা ফিরুক, ফিরুক আইনের শাসন ! কিন্তু বিদ্বেষের বাংলাদেশে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কোনও লক্ষণ নেই ! তাই প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতিতে কি আদৌ বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? নেপথ্যে কি এমন কোনও শক্তি রয়েছে, যারা চাইছে না বাংলাদেশে নির্বাচন হোক?