নয়াদিল্লি: ইরান পৌঁছলেন পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির। তেহরানকে আমেরিকার বার্তা পৌঁছে দিতে গেলেন তিনি। যুদ্ধ সমাপ্তির পথে বলে এদিনই ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের মধ্যেই তেহরান পৌঁছে গেলেন মুনির। (Asim Munir in Tehran)

Continues below advertisement

বুধবারই মুনির তেহরান পৌঁছন। সেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী মহসিন নকভি। পাকিস্তানের দাবি, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্য়ে মধ্যস্থতা করতেই তেহরান গিয়েছেন মুনির। ছবিতে সেনার ইউনিফর্মেই দেখা গিয়েছে মুনিরকে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে আমেরিকার তরফে কী বার্তা পাঠানো হয়েছে তেহরানকে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। (US-Iran War)

এর আগে, ইসলামাবাদে ‘শান্তি বৈঠক’ হলেও, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ঐক্যমত্য তৈরি হয়নি। নতুন করে ফের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। আবারও ইসলামাবাদেই দুই দেশের মধ্য়ে বৈঠক হতে পারে। আগামী দু’দিনের মধ্যে সমঝোতা হয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই।  নিই ইয়র্ক পোস্ট-কে তিনি বলেন, “আপনাদের ওখানেই (ইসলামাবাদ) থাকা উচিত। আগামী দু’দিনের মধ্যে কিছু হতে পারে ওখানে। আমরাও সেখানে যেতে আগ্রহী।” 

Continues below advertisement

সেই আবহে মুনিরের তেহরান পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের প্রাক্তন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বার্তালাপ চলছে। ইসলামাবাদে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরও দুই দেশের মধ্যে বার্তা চালান হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাঘেই জানিয়েছেন, দু’তরফের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করতেই তেহরান পৌঁছেছেন মুনির। 

তবে যুদ্ধসমাপ্তির ইঙ্গিত দিলেও, একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় ১০ হাজার বাহিনী পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। তাই শেষ পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক এগোবে কি না, তা নিয়ে এখনও সন্দিহান অনেকে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, গঠনমূলক আলোচনার জন্য প্রস্তুত তাঁরা। কিন্তু জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া চলবে না ইরানের উপর। তাই শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা-ই দেখার।

অন্য দিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এদিনই সৌদি আরব পৌঁছেছেন। সেখানে যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাঁর। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার পরই পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য় করতে উদ্য়োগী হয়েছে সৌদি আরব। পাশাপাশি, নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেও দৃঢ় করতেও বদ্ধপরিকর। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা, প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশারফ জইদিও শেহবাজের সঙ্গে সৌদি পৌঁছেছেন।