গুয়াহাটি : বিজেপি ছাড়লেন অসমের নামী গায়ক ও সুরকার সীমন্ত শেখর। একই সঙ্গে পদত্যাগ করলেন অসম রাজ্য চলচ্চিত্র (অর্থ ও উন্নয়ন) কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকেও। সোমবার একটি ফেসবুক পোস্টে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। সীমন্ত জানান, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। শেখর জানিয়েছেন যে, চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি তিনি বিজেপির অসম রাজ্য এক্সিকিউটিভ কমিটি থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন এবং জানান যে, কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ, দলীয় নীতি কিংবা কোনও ব্যক্তির প্রতি অসন্তোষের কারণে এই সিদ্ধান্ত নয়।
নিজের পোস্টে সীমন্ত লিখেছেন, "আমি এই সিদ্ধান্তটি একেবারে গভীর ব্যক্তিগত কারণে নিয়েছি। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ, নীতি বা কোনও ব্যক্তির প্রতি অসন্তোষের কোনও সম্পর্ক নেই।" ভবিষ্যতে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলেও যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন। ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিজেপির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের। একইসঙ্গে দলকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকেও শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর নেতৃত্বে অসমের উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সীমন্ত মন্তব্য করেন, অসম ও এখানকার জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা অপরিবর্তিত থাকবে। এমন এক সময়ে এই পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটল, যখন প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গকে নিয়ে করা সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে বিজেপি বিধায়ক বিজয় কুমার গুপ্তের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে আসছিলেন শেখর।
গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক বিজয় কুমার গুপ্তা বলেছিলেন যে, জুবিন গর্গ প্রায় ৩,০০০ গান গেয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য অসমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ‘জুবিন দিবস’কে কেন্দ্র করে চলা বিভিন্ন আলোচনা ও কর্মসূচির আবহে।
তাঁর পোস্টের প্রেক্ষিতে সীমন্ত শেখর ওই বিধায়ককে অনুরোধ জানান, তিনি গর্গ সম্পর্কে জনসমক্ষে কোনও মন্তব্য করার আগে যেন তাঁর সঙ্গীত এবং অসমীয়া সমাজ ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
সীমন্ত লেখেন, "প্রথমে জুবিন গর্গকে ভালভাবে জানুন ও বুঝুন- তাঁর সঙ্গীত, অবদান এবং অসমের সমাজ ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নিন। তারপরই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে মন্তব্য করুন।" তিনি আরও বলেন, "আপনি হয়তো বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, সেটি আপনার রাজনৈতিক পরিচয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, জুবিন গর্গের মতো একজন কিংবদন্তিকে নিয়ে করা প্রতিটি অজ্ঞতাপূর্ণ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যকে আমাদের সমর্থন করতে হবে।"
