মর্মান্তিক। বজ্রপাতে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। বিহারের তিন জেলায় ঘটে ঘটনাগুলি। মঙ্গলবার একথা জানানো হয় সরকারি বিবৃতিতে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনাগুলি ঘটেছে। গতকাল সন্ধেয় প্রকাশিত CMO-র এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বাঁকা জেলায় পাঁচজন, লখীসরাইয়ে তিনজন এবং পটনা জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার মৃতদের নিকটাত্মীয়দের প্রত্যেককে ৪ লক্ষ টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে।

Continues below advertisement

বাঁকায় বজ্রপাতে প্রাণ হারানো পাঁচজনের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন মহিলা ছিলেন। বাঁকার বাউসি থানা এলাকার পোরাই গ্রামে, বাড়ির বাইরে থাকাকালীন বজ্রপাতে একই পরিবারের সদস্য কুশমি দেবী (৪৫), রিঙ্কু দেবী (৩৫) ও রেণু দেবী (৩৮)-র মৃত্যু হয়।

বাউসি ব্লকের সিরাই গ্রামের বাসিন্দা সুরেশ যাদব নিজের জমিতে যাওয়ার পথে একটি পুকুরের কাছে বজ্রপাতের কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ব্লকের কাজী কাইরি গ্রামে, সুফিয়ানা খাতুন (৫০) মাঠে ধান রোপণ করা শ্রমিকদের জন্য সকালের খাবার পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

Continues below advertisement

বাঁকার অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) অজিত কুমার জানিয়েছেন যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ের (সিএমও) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্দেশিকা মেনে চলার পাশাপাশি খারাপ আবহাওয়ার সময় মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী।

বজ্রপাতের তীব্রতা কেন বেশি ?

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বর্ষাকালে এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে বিকেল বা সন্ধের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। অনেক ক্ষেত্রেই বজ্রপাতের তীব্রতা আগের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতির পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন আবহবিদরা। রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, এখন বর্ষা বার্স্ট ও ব্রেকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই কখনও মাঝখানে  এক-দু'দিনের জন্য বৃষ্টির বিরতি থাকে (Monsoon Break)। কখনও কখনও ২ থেকে ৭ দিনেরও বৃষ্টিবিরতি থাকছে। তখন কলকাতায় বজ্রপাতের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কারণ, এই সময় সূর্যের তাপে শহরের ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুপুর ও বিকেলের দিকে সেই তাপ বায়ুমণ্ডলকে অত্যন্ত অস্থির করে তোলে। শুধু তাই নয়, কলকাতায় ঘন ঘন বাজ পড়ার পিছনে কাজ করছে অনেকগুলি ভৌগলিক পরিস্থিতি ও আবহাওয়া বিষয়ক কারণ। জানিয়েছেন 'ওয়েদার আলটিমা'র কর্ণধার ও আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।