Sydney Mass Shooting: ইহুদিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতটে ২ বন্দুকবাজের হামলা। সিডনির বন্ডি বিচে যে হামলা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ সেই ঘটনাকে আগেই 'জঙ্গি হামলা' বলে ঘোষণা করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিগত তিন দশকে এটাই অস্ট্রেলিয়ার 'ডেডলিয়েস্ট শুটিং'। ২ আততায়ীর মধ্যে একজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আরেকজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় পাকড়াও করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। সিডনির এই হামলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত হয়েছে আরও অনেকে। মৃত এবং আহত, দু'দলেই রয়েছেন মহিলা এবং শিশুরা। রয়েছেন পুলিশকর্মীরাও। আর এই হামলার পিছনে রয়েছে এক বাবা এবং ছেলে।
বছর পঞ্চাশের সজিদ আক্রম এবং তাঁর ছেলে নাভিদ আক্রম। বছর ২৪- এর নাভিদের ছবি আগেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আহত অবস্থায় এই নাভিদকেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মাল লানিওন। আর ঘটনাস্থলেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় সাজিদের। সিডনিতে হামলার পর নাভিদের ছবি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সম্পর্কে জানা যায় বেশ কিছু তথ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের অনেকেই দাবি করেন, নাভিদ আক্রম আদতে পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা। সিডনির আল-মুরাদ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিল সে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাভিদের একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের ক্রিকেট জার্সি গায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে নাভিদ।
পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত এই বাবা-ছেলে, এমনটা জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CBS News- এর প্রতিবেদনেও। সেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিকরা এই তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, নাভিদের যে নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি ড্রাইভার লাইসেন্স রয়েছে, সেই ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। ওই ড্রাইভার লাইসেন্সের ছবি একঝলক দেখা গিয়েছে, একটি সবুজ জামা পরে রয়েছে নাভিদ। আর এর থেকেই নেটিজেনদের একাংশ অনুমান করেছেন, সম্ভবত ওই ছবিতে পাকিস্তানের ক্রিকেট জার্সি রয়েছে নাভিদের পরনে। অন্যদিকে আবার জানা গিয়েছে, নাভিদের বাবা সাজিদের একটি ফলের দোকান ছিল। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তার কাছে বন্দুক রাখার লাইসেন্সও ছিল। অন্যদিকে, নাভিদ যে ইটভাটায় কাজ করত, সেটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় মাস দুই আগে কাজ চলে যায় তার।
নাভিদ আক্রম একজন অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক। তার বাবা সাজিদ ১৯৯৮ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে তা স্থানান্তরিত হয় পার্টনার ভিসা এবং তার পরবর্তীতে রেসিডেন্ট রিটার্ন ভিসায়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টোনি বার্ক এই তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়াও হামলার পরেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিস জানিয়েছিলেন, বন্দুকবাজরা ইচ্ছে করে ইহুদি সম্প্রদায়কে নিশানা করেছিল তাঁদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান Hanukkah- র প্রথম দিনে। অন্যদিকে, আইএএনএস- এর রিপোর্টে এক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা বিভাগকে নাভিদ সম্পর্কে খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছে বছর ছয়েক আগে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যোগ ছিল তার। যেহেতু একবার গোয়েন্দাদের নজরে এসে গিয়েছিল, তাই সম্ভবত নাভিদ চুপচাপ ছিল এবং আক্রমণের সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিল, প্রাথিমক তদন্তে এমনটাই মত তদন্তকারী আধিকারিকদের।
তথ্যসূত্র- NDTV