নয়াদিল্লি: ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন আত্মসমর্পণ করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়ও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি, ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অবস্থান পাল্টালেন না ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করেনি, কখনও করবেও না। (Ayatollah Ali Khamenei)
প্রথম ইজরায়েল হামলা চালানোর পরই কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছিল ইরানকে। দুই দেশের সংঘাতে আমেরিকা নিজেকে জড়িয়ে নেওয়ার পরও অবস্থান পাল্টায়নি তারা। বরং দেশের ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণাকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাতের পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়। সেই মতো কাতারে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে আঘাত হানে ইরান। (Iran-Israel Ceasefire)
এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তবে সাত তাড়াতাড়ি ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেও, তা কার্যকর করার সময়কাল নিয়ে ধন্দ ছড়ায়। উল্টো দিক থেকে আক্রমণ না করা হলে, তারাও আঘাত করবে না বলে জানালেও, কোনও চুক্তি হয়নি বলে প্রথমে জানায় ইরান। এর পর যদিও, দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শত্রুতা থেকে সরে আসার কথা জানান। শেষে ইজরায়েলের তরফে বিবৃতি জারি করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কথা জানানো হয়।
এর পরই সোশ্য়াল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন খামেনেই। তিনি লেখেন, 'যাঁরা ইতিহাস জানেন, ইরানি জাতিকে চেনেন, তাঁরা ভাল করেই জানেন যে, ইরান কখনও আত্মসর্পণ করবে না'।
তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও, বেশ কিছু বিষয় নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরেছে বলে দাবি করলেও, এই শান্তি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইরানের পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠায় ঘোর আপত্তি আমেরিকা ও ইজরায়েলের। সেক্ষেত্রে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেই নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে, যুদ্ধবিরতি হওয়ার পরও ইরানের তরফে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইজরায়েল। ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব ক্ষেপণাস্ত্রে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। ইরান যদিও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। ফলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ কখন বন্ধ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ট্রাম্প যদিও জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তা লঙ্ঘন করা উচিত হবে না।
এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিয়েও নানা তত্ত্ব উঠে আসছে। CNN জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির জন্য নেতানিয়াহুকে রাজি করান খোদ ট্রাম্প। তাঁর ভাইস জেডি ভ্যান্স এবং অন্যরা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় উদ্যত হন। এই যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে রাজি করাতে কাতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও ইরানের দাবি, গতকাল কাতারে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে তারা যে আঘাত হানে, তাতে পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে বলে বোধোদয় হয় আমেরিকা ও ইজরায়েলের, তারাই যুদ্ধবিরতির সুপারিশ করে। সব মিলিয়ে সংশয় কাটিয়ে উঠতে পারছেন না অনেকেই।