কলকাতা: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও চাঁদার অর্থ তছরুপের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পর এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মোট আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের সকলকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   

Continues below advertisement

তদন্তকারীদের দাবি, রাম মন্দিরের জন্য সংগ্রহ করা অনুদানের অর্থের হিসাব-নিকাশে একাধিক অসঙ্গতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। SIT-এর অন্তর্বর্তী রিপোর্টে নগদ অর্থ গণনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অর্থ সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান-পর্ব শেষে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। তার পরে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়।               

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের লখনউ জ়োনের এডিজি প্রবীণ কুমার বৃহস্পতিবার জানান, এফআইআর-এ যাঁদের নাম অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র। লবকুশ এবং অনুকল্প মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও নথিভুক্তির কাজে যুক্ত ছিলেন। 

Continues below advertisement

সূত্রের খবর, প্রাথমিক রিপোর্টে ১৭ জন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে তারা। এ ছাড়াও দেড়শোর কাছাকাছি মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত সেবাদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে এঁদের অনেকেরই সম্পদ কয়েক গুণ বেড়েছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নতুন করে আরও গ্রেফতারি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীরা অনুদানের অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে এবং উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভক্তদের বিশ্বাস অটুট রাখতে তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি করা হবে না।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রকল্পকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক নতুন করে অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকে।