ঢাকা: ভোটের ফল প্রকাশের পরেও বাংলাদেশে অশান্তি। নারায়ণগঞ্জে BNP-র পার্টি অফিসে আগুন। গভীর রাতে BNP-র পার্টি অফিসে ভাঙচুর, আগুন। ২ সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি পুলিশের।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভোররাতে আগুনের সূত্রপাত হলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসববাপত্র পুড়ে যায়। বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আগুনের ঘটনার পেছনে বিরোধী পক্ষের কারও হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দিয়েছিলেন BNP চেয়ারম্যান ও হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছিলেন, 'দল, মত, ধর্ম বর্ণ - কিম্বা ভিন্ন মত যাই থাকুক, কোনও অজুহাতে অবশ্যই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না। ন্যায় প্রণয়ন হবে আদর্শ। আইনের শাসক প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সক চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। আইনের শাসন প্রতিষ্টাই সরকারি দল কিম্বা বিরোধী দল, অন্য মত কিম্বা ভিন্ন মত - প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান।'
আওয়ামি লিগহীন বাংলাদেশে বড় জয় BNP জোটের। ২৯৯ আসনের নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসনে জয়ী তারেক রহমানরা। শেখ হাসিনা জমানায় জেল খেটে স্বেচ্ছা নির্বাসনে বিদেশে যেতে হয়েছিল যাঁকে, ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ভোটযুদ্ধে বাজিমাত করলেন সেই খালেদা-পুত্র। সত্তরের বেশি আসন পেয়েছে জামাত জোট।
এবারের ভোটে ভারত বিদ্বেষী জামাতে ইসলামি ও ছাত্র জোট কার্যত ধুয়েমুছে গেছে! সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর, রাজশাহি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের মতো জায়গায় জয়ের খাতা খুলেছে জামাত।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়েছিল। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ভোট পড়েছে ৬১ শতাংশ। গত ত্রিশ বছরের মধ্য়ে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনও নির্বাচন হয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া নেই। খালেদা জিয়া সদ্য় প্রয়াত। আর শেখ হাসিনা দেশছাড়া। এবার আওয়ামি লিগকে ছাড়াই ভোট হয়েছে বাংলাদেশে। কারণ, দেশে হাসিনার দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।
