ঢাকা : আবার উত্তাল বাংলাদেশ। অশান্ত রাস্তাঘাট। পথে পথে বিক্ষোভ। জ্বলল আগুন। বেতনবৃদ্ধির দাবিতে দাবিতে পথে নামলেন বাংলাদেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পোশাক তৈরি ও হোসিয়ারি দ্রব্য তৈরির অজস্র কারখানা রয়েছে বাংলাদেশে। সেখান থেকে বিদেশেও জিনিসপত্র রফতানি হয় । কিন্তু সেই সব কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি নিতান্তই কম। তাই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ নেমেছেন কারখানার শ্রমিকরা। আর সেই আন্দোলন আটকাতে গিয়ে প্রবল বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। তীব্র হয় প্রতিবাদী শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ।
সোমবার বাংলাদেশের হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামে। অবরোধ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ঘাট। আটকানো হয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। বাধা দিতে গেলে পুলিশও প্রতিরোধের মুখে পড়ে। জনতা - পুলিশ সংঘর্ষ তীব্র হয়। শ্রমিকদের দাবি, তাঁরা এখন দৈনিক যে মজুরি পান, তা অত্যন্ত কম,পেট-চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে ক্রমশ। তাই বর্তমান ন্যূনতম মজুরির দ্বিগুণেরও বেশি মজুরির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শিল্পাঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।
সারা বিশ্বে পোশাক রফতানিতে চিন প্রথম আর বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করা হয় বাংলাদেশে। কিন্তু অভিযোগ, মালিকপক্ষ বিরাট অঙ্কের মুনাফা করলেও কর্মীদের অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করানো হয়। তাই এখন শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি না বাড়ালে কাজে ফিরবেন না তাঁরা। সোমবার রাজধানী ঢাকার উত্তরে অবস্থিত গাজীপুরে শত শত শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন । অভিযোগ, বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করেন তাঁরা। অন্যদিকে, মিরপুর এলাকায় বড় বড় দল রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
রবিবার সরকার ঘোষণা করেছিল যে, তারা পোশাক শিল্পের জন্য একটি মজুরি বোর্ড গঠন করবে। ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা করা হবে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন এবং দেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগই আসে এই খাত থেকে। তবে শ্রমিক নেতারা বলছেন, কেবল মজুরি বোর্ড গঠন করলেই শ্রমিকদের ক্ষোভ প্রশমিত হবে না। ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। বিক্ষোভকারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানিয়েছেন।
